বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল কাস্টমস হাউসের এক জয়েন্ট কমিশনার কর্তৃক আরমান নামের এক রাজস্ব সহকারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ৮ অক্টোবর রাতে বেনাপোল স্থলবন্দরের ৪১ নম্বর শেডে এ অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কাস্টমস ও বন্দর মহলে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
প্রত্যদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, কাজের ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা বা ত্রুটি থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে সরাসরি গায়ে হাত তোলার মতো ঘটনা কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে বন্দর এলাকায় চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। আধুনিক প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে এ ধরনের লাঞ্ছনার ঘটনা ছড়িয়ে পড়ায় ভুক্তভোগী রাজস্ব সহকারী সমাজে চরম হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তার সহকর্মীরা।
ঘটনার বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে ওই শেডের ২ নম্বর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। তিনি আরও বলেন, “আপনারা স্থলবন্দরের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন; সেখানে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করলে আপনাদের প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে সুবিধা হবে।”
ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, ৪১ নম্বর শেড থেকে কোনো পণ্য অবৈধভাবে বা চুরি করে বের করা হয়নি। কাস্টমস কর্তৃক পরীক্ষণ সম্পন্ন ও বৈধ ছাড়পত্র দেওয়ার পরেই নিয়মমাফিক শেড থেকে পণ্য বের করা হয়েছে। কাস্টমসের ছাড়পত্র স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে সংরতি রয়েছে। যদি কোনো অনিয়ম থেকে থাকে, তবে পণ্য খালাসের আগেই কাস্টমস কর্তৃপ কেন ওই চালানটি আটক করল না সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট জয়েন্ট কমিশনার পণ্য ছাড় হওয়ার আগে কেন তা আটক করলেন না কিংবা অনিয়ম থাকলে চালানের ছাড়পত্র কেন দেওয়া হলো এ নিয়ে কাস্টমস ও বন্দরে নানা গুঞ্জন চলছে। তবে অন্য একটি বিশেষ মহলের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে কড়া এবং পূর্বেও এই কাস্টমস হাউসে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পুরো ঘটনাটির সুষম, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন বন্দর ও কাস্টমসের সচেতন মহল।
এ বিষয়টি জানতে চেয়ে সরফু্দ্দিন সাহেবকে কয়েকবার ফোন দিলে ও কোন ফোন রিসিভ করেন নাই।