মো: আনিছুর রহমান , বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষান দিয়ে আবারও ভায়াগ্রা ও বিভিন্ন ধরনের ওষুধ আমদানি করেছে। আরাফাত এন্টারপ্রাইজ নামে ঢাকার একটি আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান শিল্প কলকারখানার কাঁচামাল ঘোষনা দিয়ে ভায়াগ্রা সহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ আমদানি করেছে।
আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান যে সব পণ্য মিথ্যা ঘোষনা দিয়ে আমদানি করেছে তাকে বাধ্যতামুলক ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এর অনুমতি থাকতে হবে। কোন প্রকার অনুমতি না নিয়েই বেনাপোল কাস্টমস হাউস দিয়ে সিরামিক গ্লেজসহ গ্লাস উৎপাদনের কাঁচামাল কোয়ার্টজ পাউডার এর পরিবর্তে ওমেপ্রাজল, সালফোনোমাইড/সালফো এন্টিবায়োটিক, ইটোরিক্সওক্সিব, হাউড্রোকুইনাইন,মোন্টেলুকাস্ট সোপিডয়াম, রিবোফাবিন সোডিয়াম ফসপেট জাতিয় র-মেটিরিয়ার আমদানি করে।
আমাদানি কারক আরাফাত এন্টারপ্রাইজ এর নিয়োগকৃত সিএন্ডএফ এজেন্ড হায়াদার এন্ড সন্স। পণ্য বেনাপোল কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ধরা পড়ার পর পরই গা ঢাকা দিয়েছে সিএন্ডএফ কর্তৃপক্ষ।
আমদানিকৃত পণ্য ঘোষনা দিয়েছে কোয়ার্টাজ পাউডার যার বিল অব এন্ট্রি নং ১৯০৪২ তারিখ ১৫/০৩/২০২৬। ৪৬৯ প্যাকেজ। পণ্য চালানটি বর্তমানে ৩৪ নং কেমিকেল সেডে রয়েছে বলে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ জানান।
ডমথ্যা ঘোষনা দেওয়া ওই সব প্যাকেজে রয়েছে অনুমতি ছাড়াই ভায়াগ্রা বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও কাঁচামাল, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরীতে ও ব্যবহার করা হয় এক ধরনের এনার্জি ড্রিংক তৈরীতে ভায়াগ্রার কাঁচামাল মেশানো হয়। এধরনের এনার্জি ড্রিংক সেবনে সেবনকারীরা আসক্ত হয়ে পড়ে। এর আগেও বেনাপোল কাস্টমস কয়েকদফা একাধিক ভায়াগ্রার চালান আটক করেছে।
সূত্র জানায়, বেনাপোল কাস্টম হাউস দিয়ে সি-১৯০৪২ নম্বর বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে গত ১৫ মার্চ পণ্য আমদানি করে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের মুসলিমবাগের আরাফাত এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটি সিরামিক ও গ্লাস উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ১৬ টন কোয়ার্টজ পাউডার ঘোষণা দেয়। কিন্তু কাস্টম হাউস কর্তৃপরে কাছে গোপন সংবাদ থাকায় পণ্য চালানটির নমুনা পরীার জন্য খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) পাঠানো হয়।
আর পরীায় উঠে আসে ভয়াবহ তথ্য। এতে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান শিল্পের কাঁচামালের বাইরে ভায়াগ্রাসহ আট ধরনের ওষুধপণ্য নিয়ে আসে। দেখতে একই ধরনের পাউডার হলেও চালানটিতে কোয়ার্টজ পাউডারের সঙ্গে সিলডেনাফিল সাইট্রেট ভায়াগ্রা পাউডারের উপস্থিতি মিলেছে কুয়েটের নমুনা পরীায়। মিথ্যা ঘোষণা ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি ওষুধ প্রশাসনের অনুমতি নেয়নি। একজন বাণিজ্যিক আমদানিকারক অনুমতি ছাড়া আমদানি-নিয়ন্ত্রিত ভায়াগ্রা ও ওষুধ আনার কারণে পণ্য চালানটি জব্দ করেছে বেনাপোল কাস্টম হাউস কর্তৃপ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেনাপোল কাস্টম হাউসের শুল্ক গোয়েন্দা এ আরও ফয়সাল মাহমুদ ও আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন , ‘আরাফাত এন্টারপ্রাইজের পণ্য চালানের নমুনা পরীায় বেনাপোল কাস্টমস হাউস ভায়াগ্রা ও কিছু ওষুধ পেয়েছে। আমরা ও ৭টি নমুন পাঠিয়েছিলাম সেখানে ৬ টি তে ঘোষনা বাহির্ভুত কোয়ার্টজ পাউডার ছাড়াও আরো ৬টি পণ্য পাওয়া গেছে। আরো ৬টি নমুনা আমরা ইতিমধ্যে টেষ্টে পাঠিয়েছি। মিথ্যা ঘোষণায় পূর্বানুমতি ছাড়া আমদানি করায় পণ্য চালানটি জব্দ করা হয়েছে। তবে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের মালিক পলাতক থাকায় কী পরিমাণ ভায়াগ্রা ও ওষুধ রয়েছে, তা পুরোপুরি জানা যাচ্ছে না। কারণ কায়িক পরীা করতে হলে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির উপস্থিতি লাগবে। তবে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা এ পণ্য চালানের বিষয়ে সব ধরনের আইনি পদপে নেওয়া হবে।’ ফৌজদারি মামলা থেকে শুরু করে এ পণ্য চালানের েেত্র কোনো ধরনের অর্থ পাচার সংঘটিত হয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপকে অনুরোধ করা হবে বলেও জানান এ কাস্টমস এর এ দুইজন কর্মকর্তা।
সূত্র আরও জানায়, মার্চের মাঝামাঝি আমদানি হওয়া এ পণ্য চালানে কোয়ার্টজ পাউডারের বাইরেও ম্যাগনেসিয়াম স্টিয়ারেট, ইটোরিকক্সিব, হাইড্রোকুইনোন, ওমিপ্রাজল, মন্টেলুকাস্ট সোডিয়াম, রিবোফ্যাভিন সোডিয়াম ফসফেট এবং প্যারাসিটামলের মতো ওষুধের প্রমাণ মিলেছে কুয়েটের ল্যাবের পরীায়। বর্তমান ওষুধ ও কসমেটিক আইন অনুযায়ী, কোনো ধরনের ওষুধ আমদানি করতে হলে আমদানির আগে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে অনুমতি নিতে হবে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আরাফাত এন্টারপ্রাইজ কোনো ধরনের অনুমতি নেয়নি বলেও নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বেনাপোল কাস্টম হাউসের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময়ে এ বন্দর দিয়ে ভায়াগ্রার চালান এসেছে। এ কারণে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে অন্যান্য সময় মোটর পার্টসসহ বিভিন্ন কিছুর আড়ালে আনার চেষ্টা করলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। শিল্পের কাঁচামাল ঘোষণার আড়ালে খালাসের চেষ্টা করেছিল বলেও জানান কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, এর আগে এক চালানেই ছয় হাজার কেজি সিলডেনাফিল সাইট্রেট (যৌন উত্তেজক ওষুধ ভায়াগ্রার কাঁচামাল) ধরা পড়েছিল বেনাপোল স্থলবন্দরে। এরপরও বিভিন্ন সময়ে ভায়াগ্রার কাঁচামাল দেশে ঢুকেছে। এটি ঢুকছে মূলত সোডিয়াম স্টার্চ গ্লাইকোলেট নামে। সিলডেনাফিল সাইট্রেট, যা মূলত ওষুধ উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানে কিছু বিশেষ ওষুধের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইদানীং কিছু কোমল পানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোমল পানীয় উৎপাদনে এ উপাদান ব্যবহার করছে বলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে অভিযোগ জমা পড়েছে। এ ছাড়া মিথ্যা ঘোষণায় আনা এ পণ্য ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরিতেও ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে। এক ধরনের এনার্জি ড্রিংক তৈরিতে ভায়াগ্রার এ কাঁচামাল মেশানো হয়। এ ধরনের এনার্জি ড্রিংক সেবনকারী কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীরা আসক্ত হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, কারও হার্টে বা ব্রেনে সামান্যতম সমস্যা থাকলে, ভায়াগ্রা সেবনে তার মৃত্যু অবধারিত। তাই নির্ধারিত (চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ) চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এবং শারীরিক পরীা-নিরীা করে তবেই ভায়াগ্রা সেবন করতে হবে। বাইপাস সার্জারি, ব্লাডপ্রেশার ও ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীরা ভায়াগ্রা সেবন করতে পারবেন না। ভায়াগ্রা কেউ বেশিদিন সেবন করলে আসক্ত হয়ে যায়। আর এটা ছাড়তে পারে না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ভায়াগ্রা সেবন স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি বলেও জানিয়েছেন তারা।