সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটের এআরডি ভূয়া এনজিও সংস্থার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ জুলাই ২০২৬ইং সিলেট জেলা প্রশাসক বরাবরে নিকট উক্ত ভূয়া এনজিও’র চেয়ারম্যান কাজি আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন এআরডি’র জাফলং শাখার ব্যবস্থাপক মো. কামাল হোসেন।
তিনি লিখিত অভিযোগ উল্লেখ করেন, এআরডি মুলক একটি সামাজি সংগঠন সেটি গোলাপগঞ্জ উপজেলার সমাজসেবা অফিস থেকে রেজিষ্ট্রেশন করা হয়। কিন্তু এটি কাজি আলম এনজিও সংস্থা বানিয়ে মাইক্রোক্রেডিটে রূপন্তর করে সিলেটর বেশ কয়েকটি উপজেলায় নানা প্রকল্প পরিচালনা করে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য যে, সংস্থাটি মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি (এমআরএ) এর প্রাথমিক সনদ প্রাপ্তির পর থেকেই এমআরএ নীতিমালার পরিপন্থী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। ভর্তি, সঞ্চয়, ঋণ ফরম, সার্ভিস চার্জ গ্রহণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে এমআরএ নীতিমালা অমান্য করে আসছেন বলে জানা গেছে।
এনজিও চেয়ারম্যান ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ ১৫% গ্রহণ করেন সদস্যদের নিকট থেকে “এআরডি মা ও শিশু ক্লিনিক” নামে মানি রিসিটের মাধ্যমে অতিরিক্ত ২০০-৫০০ টাকা হেলথ কার্ড নামে গ্রহণ করে কিন্তু উক্ত টাকা কোন খাতে জমা না করে নির্বাহী পরিচালক নিজে নগদ গ্রহণ করেন বলে অভিযোগে জানা যায়। “এআরডি মা ও শিশু ক্লিনিক” নামে সংস্থার কোন প্রতিষ্ঠান নাই এবং সদস্যদেরও কোন ধরনের স্বাস্থ্য সেবাও প্রদান করা হয় না।
এমআরএ নির্ধারিত ১২.৫০% এর অতিরিক্ত ১৫% সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করা হয় সফটওয়ার এ ১২.৫% দেখানো আছে কিন্তু সদস্যদেও কাছ থেকে ১৫% গ্রহণ করা হয়। গৃহীত অতিরিক্ত টাকা শাখায় জমা না করে নির্বাহী পরিচালক নিজে নগদ গ্রহণ করে। শাখায় ২টি করে এআরডি (এসোসিয়েশন ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট) নামে বিতঃ রেজিঃ ক্যাশ বই, লেজার, কালেকশন সীট (এমআরএ ও এমআরএ বহির্ভুত) দুই ধরনের পাশবই ও ২টি সফটওয়ার ব্যবহার করা হয়। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটিকে ফাকি দেয়ার জন্য। এমআরএ বহির্ভূত ঋণ কার্যক্রমে ১৫- ১৭% পর্যন্ত লাভ নেয়া হয়।
এমআরএ নির্ধারিত ঋণ পোর্ট ফোলিও সঠিক রাখার জন্য মে, জুন ও নভেঃ ডিসেম্বর মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা বিভিন্ন নামে ভুয়া বিতরন দেখানো হয় পরবর্তীতে এমআরএ রিপোর্ট প্রদানের পর উক্ত ঋণ বিভিন্ন ভাবে সমন্বয় করা হয়। সংস্থাটি ক্ষুদ্র ঋণ পরিচালনার পাশাপাশি মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি (এমআরএ) এর বিধিমালা পরিপন্থী বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি (এমআরএ) কর্তৃপক্ষ সংস্থাটির সার্বিক কার্যক্রম অডিট ও মানটরিং করলে আরও অনিয়ম পাওয়া যাবে। যেমন – ডিপিএস সংগ্রহ, এফডি আর গ্রহণ অন্য সংস্থার পাশ বই ব্যবহার করে ডিপিএস সংগ্রহ। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি (এমআরএ) এর বিধিমালা পরিপন্থী এবং অনুমোদন না নিয়েই এমআরএ নির্ধারিত জাফলং শাখা সহ আরও তিনটি শাখায় (শাহপরান, কদমতলী এবং ফেঞ্চুগঞ্জ) দীর্ঘ দিন ধরে ওয়ালট এর পন্য (টিভি, ফ্রিজ, এসি ইত্যাদি) বিক্রির পাশাপাশি ঋণ ও সঞ্চয় (এফডিআর, ডিপিএস সংগ্রহ সহ) কার্যক্রম পরিচালনা করছে ঋণে ১৫-১৭% সার্ভিস চার্জ এ।
প্রতিমাসের শেষে সদস্যদের লক্ষ-লক্ষ টাকা বকেয়া না দেখিয়ে ইডির নির্দেশে সফটওয়ার এ আদায় দেখাতে হয়। অতিরিক্ত ক্যাশ যাতে না থাকে সে জন্য পুনরায় ভুয়া বিতরন দেখানো হয়। মাস শেষে আবার সেই সব ঋণের কিস্তি জমা করতে হয়। এভাবে প্রতি নিয়ত কাজ করতে হয় নন ক্যাশ ট্রাংজেকশন করে প্রধান কার্যালয়ের সাথে লেনদেন করা হয়। এভাবে ইডির মৌখিক নির্দেশে অনেক ভুয়া বিতরণ করা হয়েছে। শাখার শুরু থেকে গত মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ টাকা বকেয়া পরলেও কোন প্রকার বকেয়া দেখানো হয় নাই। জাফলং শাখায় গত এপ্রিল ২০২৬ মাসে সদস্যদের বকেয়া টাকা সমন্বয় বা ক্যাশ বাকী রেখে সমন্বয় না করে বকেয়া দেখালে এবং বিভিন্ন অনিয়ম করতে অস্বীকার করলে ইডি পূর্বে বিভিন্ন মাসে তার নির্দেশে দেখানো ভুয়া ঋন গুলো আমার উপর আত্বসাতের মিথ্যা অভিযোগ আনে। সফটওয়ার কালেকশন সীট, বকেয়া রিপোর্ট, পরীক্ষা করলে উক্ত অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হবে বলে অভিযোগক্ত ব্যক্তি জানান। এছাড়াও জাফলং শাখায় ১,৭০,০০০/= টাকা মোটর সাইকেল ঋণ দেখানো আছে যা প্রকৃত পক্ষে ঋণ দেয়া বা মোটর সাইকেল কেনা হয়নি। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি (এমআরএ) এর অনুমোদন ব্যতিত এবং বিধিমালা অমান্য করে ৫টি শাখার (সিলেট, কদমতলী, জাফলং, শাহপরান ও ফেঞ্চুগঞ্জ) মাধ্যমে ঋণ ও সঞ্চয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং লক্ষ লক্ষ অতিরিক্ত ( হেলথ কার্ড, অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ ইত্যাদি,টাকা শাখায় জমা না করে নির্বাহী পরিচালক নগদ গ্রহণ করছে। সকল শাখায় লক্ষ লক্ষ টাকা বকেয়া থাকলেও এমআরএ নির্ধারিত ২টি শাখায় (সিলেট, জাফলং) কোন বকেয়া দেখানো হয় না। উল্লেখ্য যে, প্রাক্তন প্রধান কার্যালয়ের কো অর্ডিনেটর খন্দকার মাহমুদুল আলম যিনি গত ০১.৪.২০২৫ইং থেকে ৩০.১১.২০২৫ ইং পর্যন্ত এআরডি (এসোসিয়েশন ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট) তে চাকুরী করেন। তার প্রধান কার্যালয়ে কো অর্ডিনেটর এর দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও মূলত তাকে সিলেট উপশহর শাখার সিনিয়র শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করে। তিনি জাফলং শাখায় কখনও দায়িত্ব পালন করেন নি। এআরডি সংস্থার কথা ও কাজে মিল না থাকায় তিনি ডিসেম্বর ২০২৫ মাসে চাকরি ছেড়ে চলে যান। তাকে হয়রানী করার উদ্দেশ্যে মিথ্যে স্বাক্ষী সাজিয়ে অর্থ আত্মসাতে সহযোগিতা করার অভিযোগ এনেছে। উল্লেখিত বিষয় গুলো তদন্ত পূর্বক (সফটওয়ার রিপোর্ট, কালেকশন সীট, লেজার, পাশবই, প্রধান কার্যালয়ের সাথে অগ্রীম লেনদেন, ডেবিট ভাওচার ইত্যাদি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়।