মো: আনিছুর রহমান বেনাপোল প্রতিনিধি: দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক হাব ও প্রাণকেন্দ্র বেনাপোল স্থলবন্দরকে ঘিরে গড়ে ওঠা বেনাপোল পৌরসভায় বইছে আসন্ন নির্বাচনের আগাম হাওয়া। নির্বাচনী আমেজের মধ্যেই বেনাপোলকে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন স্থানীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ ও বেনাপোল গড়ার স্বপ্নদ্রষ্টা মফিজুর রহমান সজন।
একজন পরীক্ষিত ও দক্ষ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এলাকায় তাঁর রয়েছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। দীর্ঘ সময় ধরে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্ব দেওয়া সজন সততা ও নিষ্ঠার সাথে বেনাপোলের উন্নয়নের সারথি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
দীর্ঘ ৪২ বছরের নিরলস সংগ্রাম
মফিজুর রহমান সজনের বেনাপোল নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু ১৯৮২ সাল থেকে। সে সময় তিনি গঠন করেন ‘বেনাপোল উন্নয়ন পরিষদ’। এই পরিষদের সভাপতি হিসেবে গত ৪২ বছর ধরে তিনি ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে চলেছেন। তাঁর উত্থাপিত ৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:
১. বেনাপোল পৌরসভা গঠন। ২. বেনাপোল পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর বাস্তবায়ন। ৩. বেনাপোল কাস্টম হাউস প্রতিষ্ঠা ও ভিত্তি স্থাপন। ৪. বেনাপোল রেললাইন চালু ও আইসিডি (ICD) টার্মিনাল স্থাপন। ৫. এশিয়ান হাইওয়ে ৬ লেনে উন্নীতকরণ।
বর্তমানে এই ৫টি দাবির ৪টিই দৃশ্যমান বাস্তবতা এবং এশিয়ান হাইওয়ের কাজও চলমান রয়েছে। এছাড়া ১৯৮৫ সালে রাষ্ট্রপতি এরশাদকে বেনাপোল বন্দর ও কাস্টমস পরিদর্শনে উদ্বুদ্ধ করে নো-ম্যান্স ল্যান্ড থেকে বলফিল্ড পর্যন্ত ৪ লেন সড়কের প্রতিশ্রুতি আদায় ও বাস্তবায়ন ছিল তাঁর অন্যতম বড় সাফল্য।
১/১১-এর দুঃসময়ে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সজন। পরবর্তীতে দীর্ঘ ৮ বছর সফলভাবে সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বেনাপোল স্থলবন্দরের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। তাঁরই প্রচেষ্টায় হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে, যার সুফল এখন দৃশ্যমান।
তাঁর হাত ধরে বন্দরে ১০০ একর জমি অধিগ্রহণ করে আন্তর্জাতিক মানের স্থলবন্দরে রূপান্তর, বাইপাস সড়কের দক্ষিণে ৫২৫ বিঘা জমির ওপর এডিবি (ADB) ব্যাংকের অর্থায়নে ৩২০০ কোটি টাকার ‘বেনাপোল স্থলবন্দর ইউনিট-২’ ও রেল আইসিডি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প এগিয়ে চলেছে। এছাড়া চেকপোস্ট গেট ও আধুনিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল নির্মাণেও তিনি বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন।
স্বপ্নের মডেল পৌরসভা গড়তে চান সজন
মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মফিজুর রহমান সজন বলেন, “আমি যুবকাল থেকেই বেনাপোলের উন্নয়নের সঙ্গী হিসেবে কাজ করেছি। এখন আমার লক্ষ্য হলো পৌরবাসীর সমর্থন নিয়ে একটি আধুনিক ও মডেল পৌরসভা উপহার দেওয়া। পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের অপূর্ণ ইচ্ছা ও অসমাপ্ত কাজগুলো আমি সম্পন্ন করতে চাই। আমি চাই আগামীর বেনাপোল বাংলাদেশের বুকে একটি সমৃদ্ধ মডেল পৌরসভা হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকুক।”
তিনি আরও জানান, মেয়র নির্বাচিত হলে তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার হবে বেনাপোলবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি—একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা।
জনমত ও গ্রহণযোগ্যতা
স্থানীয় পৌর নাগরিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মফিজুর রহমান সজন শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, বরং সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকা এক নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। দীর্ঘ সময় ধরে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড ও সততার কারণে সর্বমহলে তাঁর রয়েছে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি। বিএনপির এই চৌকস নেতার সততা ও যোগ্যতা আগামী নির্বাচনে তাঁকে জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।