বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভবেরবেড় গ্রামে সরকারি রাস্তার জমি দখল করে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে ওই এলাকার ৭ থেকে ৮টি পরিবারের প্রায় ৪৫ জন সদস্য দীর্ঘ দিন ধরে চরম অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন। তবে অভিযুক্ত জমির মালিক এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে হয়রানি বলে দাবি করেছেন। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী গ্রামবাসীর পক্ষে সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি সম্প্রতি যশোর জেলা প্রশাসক বরাবর সরকারি রাস্তার জমি দখলমুক্ত করার দাবিতে একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। আবেদনপত্রের অনুলিপি শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), বেনাপোল পৌর প্রশাসক এবং বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও (ওসি) ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
আবেদনপত্র সূত্রে জানা গেছে, ভবেরবেড় মৌজার সিএস ও এসএ ২৮২ নম্বর দাগের ৫১ শতক জমি সরকারি রাস্তা (সাবেক রাস্তা বা ‘লম্বর’) হিসেবে রেকর্ডভুক্ত ছিল। অভিযোগ করা হয়েছে, আরএস জরিপের সময় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে উক্ত সরকারি জমি স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির নামে রেকর্ডভুক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে ওই এলাকার মৃত কালুর ছেলে মো. মাসুম আরএস ২৮২ নম্বর দাগের সরকারি রাস্তার প্রায় ৩.৫৮ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করে পাকা ভবন নির্মাণকাজ শুরু করেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, এর ফলে গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যাতায়াত করা ওই রাস্তার মুখ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এবং তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। (নোট: আপনার ড্রাফটে এক জায়গায় মাসুদ ও পরে মাসুম ছিল, এখানে ‘মাসুম’ হিসেবে সামঞ্জস্য করা হলো)
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি নিয়ে এর আগে স্থানীয় ভূমি অফিস, পৌরসভা এবং উপজেলা ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নতুন ভবন নির্মাণের পেছনে কয়েকটি পরিবার বসবাস করছে। তবে ওই সড়ক দিয়ে ভ্যান যাতায়াতের মতো সামান্য জায়গা রেখে ভবন নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে বর্তমান জমির মালিক মাসুমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকারি কোনো খাস জমি তার ক্রয়কৃত জায়গার ভেতরে নেই। তিনি বলেন, “আমি আমার ক্রয়কৃত রেকর্ডের জমি থেকে প্রায় সাড়ে ৪ ফুট থেকে ৫ ফুট জায়গা ছেড়ে দিয়ে ভবন নির্মাণ করছি। এই জমি নিয়ে সাইফুল নামের ওই ব্যক্তি বারবার এসিল্যান্ড, ইউএনও ও কোর্টে মামলা করে আমাকে হয়রানি করছে। সরকারের কাছে আমার দাবি, আমার জমির মধ্যে যদি কোনো সরকারি খাস জমি থাকে, তবে তা মেপে সরকার নিয়ে যাক, এতে আমার কোনো আপত্তি নেই।”
এ বিষয়ে বেনাপোল ভূমি অফিসের নায়েব আইয়ুব আলী জানান, বর্তমানে ওই জমি রেকর্ড অনুযায়ী মাসুমেরই মালিকানাধীন। তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে সম্মানিত আদালত ও এসিল্যান্ড মহোদয় দেখভাল করছেন। আমার কাছে কোনো প্রতিবেদন চাওয়া হলে আমি সঠিক রিপোর্ট জমা দেব। তবে মাসুমের জায়গার পশ্চিম পাশে যে বাড়িটি রয়েছে, সেই বাড়ির কিছু অংশ সরকারি খাস জমির মধ্যে পড়েছে। আর মাসুমের জমির পূর্বের রেকর্ডে যে সমস্যা ছিল, পরবর্তী রেকর্ডে তা মাসুমের নামেই রেকর্ডভুক্ত হয়েছে।”