কালের সংবাদ ডেস্কঃ ‘ইন আ ডেমোক্রেসি পিপল গেট দ্য লিডারস দে ডিজার্ভ’। ইহার সহজ অর্থ দাঁড়ায়—যেমন জনগণ, তেমন তাহাদের নেতা বলেছিলেন জোসেফ দ্য মায়েস্তর।
ফরাসি দার্শনিক, লেখক, আইনজীবী ও কূটনীতিবিদ জোসেফ দ্য মায়েস্তর (১৭৫৩-১৮২১) ফরাসি বিপ্লবের (১৭৮৯) অন্যতম সাক্ষী।
দেশের সমাজব্যবস্থার মূলেই রহিয়াছে ত্রুটিবিচ্যুতি। দেশে চোর-বাটপাড়, বদমাইশ, দুর্নীতিবাজ, এমনকি দাগি অপরাধীরা পর্যন্ত অনেক সময় নেতা হইয়া যান। দেশে নেতা হইয়া যাইবার পর সাত খুন মাফ হইয়া যায়। ক্ষমতায় থাকিতে তাহারা ধরাকে সরা জ্ঞান করে। সুশিক্ষা, আইনের শাসন, সুশাসন, মানবাধিকার, জবাবদিহিতা ইত্যাদির বালাই নাই বলিয়া যাহারা নেতা হইবার অযোগ্য, তাহারাও নেতা হইয়া যান।
চোখের সম্মুখে ও দিনে-দুপুরে পুকুর চুরি হইতে দেখিয়াও যাহারা প্রতিবাদমুখর হন না, তাহারা সেই দেশে ভালো নেতার জন্ম হইবার আশা করেন কীভাবে?
যেই সকল দেশের জনগণ নিজেদের ট্যাক্সপেয়ার না ভাবিয়া প্রজা ভাবেন, সেইখানে স্বৈরাচারী ও রাজাসুলভ নেতার জন্ম হইবেই।
রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, সংস্কৃতি প্রভৃতিতে মৌলিক গলদ থাকায় সাময়িক সময়ের জন্য উন্নতি হইলেও সেই সকল দেশের মানুষ আবার গ্যাড়াকলে নিপতিত হন। সংঘাত, সংঘর্ষ, অনৈক্য ইত্যাদি তাহাদের ললাট লিখনে পরিণত হয়। এই সকল দেশের জনগণ মনেপ্রাণে ইচ্ছা না করিলে এবং শিক্ষাদীক্ষা, অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও রাজনৈতিক সচেতনতার স্তরে উন্নত না হওয়া পর্যন্ত কোনো মৌলিক পরিবর্তনই সম্ভব নহে। রাজনৈতিক সচেতনতার প্রধান স্তম্ভ হইল ভোটাধিকারকে পবিত্র আমানত হিসাবে বিবেচনা করা এবং অর্থকড়িসহ কোনো কিছুতেই প্রভাবান্বিত না হওয়া বা নির্বুদ্ধিতার পরিচয় না দেওয়া। তবে কখনো কখনো উপরিউক্ত প্রবাদ বাক্যটিকে ঘুরাইয়া দেওয়া যাইতে পারে যদি সেই সকল দেশের জনগণ সৌভাগ্যক্রমে কোনো ক্যারিশম্যাটিক ও দেশ্রপ্রেমিক নেতার সন্ধান পাইয়া যান। তখন ঐ বাক্যটি দাঁড়াইবে: লিডারস গেট দ্য পিপল দে ডিজার্ভ। অর্থাৎ যেমন নেতা, তেমন তাহার জনগণ।