হাকিকুল ইসলাম খোকন, প্রতিনিধি আমেরিকা : জাতীয় সম্মিলিত ফোরাম (জেএসএফ) বাংলাদেশের সংগঠক হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং অবিলম্বে পূর্বের মূল্য পুনর্বহাল দাবি জানানো হয়েছে বিবৃতিতে জেএসএফ বাংলাদেশ বলেছেন, সরকার জনস্বার্থের তোয়াক্কা না করে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম একলাফে লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে মাত্র ১৭ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম দুর্বিষহ করে তুলেছে। আমরা এই গণবিরোধী সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
সরকার একদিকে দেশে পর্যাপ্ত তেল মজুত থাকার দাবি করছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ও গাড়িচালকরা তেলের জন্য হাহাকার করছে। এতে স্পষ্ট হয় যে, সরকার হয় মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে, অথবা অসাধু সিন্ডিকেটের কাছে নতি স্বীকার করে জনগণের ওপর এই বাড়তি দামের দায় চাপিয়ে দিচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করছি, শুরু থেকেই জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে, যার মাসুল এখন সাধারণ জনগণকে দিতে হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কৃষিখাতে সেচ ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ার ফলে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হবে, যার কারণে নিত্যপণ্যের দাম ভোক্তাদের নাগালের বাইরে চলে যাবে। শিল্প-কারখানার চাকা সচল রাখাও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ায় বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম আরও বাড়বে। অন্যদিকে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে। সর্বোপরি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য সরকারের এই চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দেবে।
বিবৃতিতে সরকারকে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জেএসএফ বাংলাদেশ বলেছে , ক্ষমতা গ্রহণ করেই এই সরকার জনকল্যাণের পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য জনগণের পকেট কাটতে কুণ্ঠাবোধ করছে না। আমরা সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, নিজেদের ব্যর্থতার দায় জনগণের ওপর না চাপিয়ে অবিলম্বে এই বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করে তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসুন। অন্যথায় জনগণ তার ন্যায্য অধিকার আদায়ে আন্দোলনের পথ বেছে নিতে পারে, যার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।