মোহাম্মদ আককাস আলী প্রতিনিধি মহাদেবপুর : বরেন্দ্র সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক কবি মোহাম্মদ আককাস আলীর ৮ম আবিষ্কার “দুই বাংলার কাব্যগাঁথা ও গল্পকথা” বইটি এখন জাদুঘরের দায়িত্বরত কাস্টোডিয়ানের হাতে।
প্রিয় পাঠক জানিয়ে দিবো মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের ইতিকথা।
প্রাচীন বঙ্গের রাজধানী ইিসেবে পুন্ডুনগর বা মহাস্হানগড় ছিল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক একটি প্রানকেন্দ্র। মহাস্হানগড়ের মত এ এলাকায় আর কোন নগরের এত দীর্ঘ ইতিহাস নেই । এটি ছিল মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও অন্যান্য রাজন্যবর্গের শাসন কেন্দ্রস্হল । এ নগরীর কীর্তির ধ্বংসাবশেষ ও খননকালে প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকা হতে প্রাপ্ত প্রত্নবস্তু প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ১৯৬৭ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রনাধীনে মহাস্হান জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয় । প্রতিষ্ঠা-লগ্নে জাদুঘরে সর্বমোট ১২ইঢৌ প্রদর্শনী ছিল । জাদুঘরের ভেতরে বর্তমানে মোট ৪৪টি শোকেস রয়েছে । এর মধ্যে একটিতে পাহাড়পুর ও দুটোতে কুমিল্লার ময়নামতিতে প্রাপ্ত মূল্যবান প্রত্নসামগ্রী প্রদর্শিত হচ্ছে । প্রত্নবস্তুর মধ্যে কালো চকচকে মৃৎপাত্রের টুকরা, কপারকাস্ট কয়েন, পোড়ামাটি ফলক, পাথরের গুটিকা, হিন্দু বৌদ্ধ মূর্তি, পোড়ামাটি ফলক, জালের গুটিকা, অলংকৃত বল, অলংকৃত ইট, মসজিদের শিলালিপি, গ্লেজড টাইল, অলংকৃত কাঠের দরজা ও বিভিন্ন সময়ের তৈজসপত্র ।
মহাস্থানগড় ও এর আশপাশের যেসব ঐতিহাসিক নিদর্শন আজও তার ঐতিহ্য নিয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে, সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নিদর্শনের নাম এখানে উল্লেখ করা হলো : ১. খোদার পাথর ভিটা, ২. মানখালীর কুণ্ড, ৩. জীবিত কূপ বা জিয়ত কুণ্ড বা জিয়ন কূপ, ৪. বৈরাগীর ভিটা, ৫. বন্দুকধরা, ৬. হাতিবান্ধা, ৭. হাতিডোবা পুকুর, ৮. ধোপাপুকুর বা ধোপা পক্রা, ৯. মনিরঘোন, ১০. শিলাদেবীর ঘাট, ১১. গোবিন্দভিটা, ১২. কালিদহ সাগর, বিষপত্তন ও পদ্মার বাড়ী, ১৩. গোকুলের বেহুলা লক্ষীন্দরের মেধ বা মেড়, ১৪. মথুরা, ১৫. চিঙ্গাশপুর, ১৬. ভীমের জাঙ্গাল, ১৭. কাঞ্জিরহাঁড়ি এবং ছেলীরধাপ, ১৮. ভাসু বিহার, ১৯. সম্রাট ফারুক শিয়ারের আমলের মসজিদ, ২০. গোদার ধাপ, ২১. কানাইয়ের ধাপসহ আরও শতাধিক উল্লেখযোগ্য প্রাচীন ঐতিহ্য।