মোহাম্মদ আককাস আলী প্রতিনিধি মহাদেবপুর: বরেন্দ্র অঞ্চলে শুরু হয়েছে বোরো মৌসুমের ধান কাটা। ফলন ভালো হওয়ায় কমছে চালের দাম। ধানের মূল্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে কৃষকরা। ধান কাটা পুরোদমে শুরু হলে দাম আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
সপ্তাহের ব্যবধানে মিল ও পাইকারি পর্যায়ে চালের দাম কেজিতে ২-৫ টাকা কমেছে। খুচরা বাজারে এখনও এই দাম কমার প্রভাব পড়েনি। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পুরোদমে বাজারে বোরো চাল এলে দাম আরও কমে আসবে।
গত অক্টোবর থেকেই বাড়তে শুরু করে চালের দাম। আমনের চাল বাজারে আসার পরও দাম কমেনি।
চাল বিক্রেতারা বলছেন,’নতুন চাল আসায় মিলগেটে দাম কমে এসেছে। গত কয়েকদিনে চিকন চালের দাম কেজিতে ৮-১০ টাকা কমেছে। বোরো চাল পুরোদমে উঠলে দাম আরও কমে আসবে।’
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, এ বছর ৫০.৪৬ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন কৃষকরা। এর মধ্যে ১২.১৩ লাখ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। এতে ফলন হয়েছে ৫৩.১৬ লাখ টন। এবারের বোরো মৌসুমে সারা দেশে ২.২৬ কোটি টন চাল উৎপাদন হতে পারে। জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার জানান, ‘জিরাশাইল-কাটারীভোগ এসব চালের দাম কেজিতে ৮-১০ টাকা কমে এসেছে। মোটা চাল কেজিতে ২-৩ টাকা কমেছে। কৃষকদের থেকে এখন ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা মণ দরে চাল কিনছেন ব্যবসায়ীরা।’
তবে কৃষকরা বলেন, মৌসুমের শুরুতে যে দামে ধান বিক্রি হয়েছে, এখন দাম প্রতি মণে তারচেয়ে ২০০-২৫০ টাকা কমে গেছে। আগের বছরের চেয়ে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধামের দাম কমে যাওয়াটা তাদের জন্য হতাশাজনক।
এ বছর বোরো মৌসুমে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকায় সংগ্রহ করবে সরকার—যা আগের বছরের চেয়ে ৪ টাকা বেশি। সেই হিসাবে, প্রতি মণ ধানের দাম পড়ছে ১ হাজার ৪০০ টাকা। খোলাবাজারে ভেজা ধান ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং শুকনো ধান ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে।
কৃষকরা বলছেন, সরকারি গুদামের চাহিদা অনুযায়ী ধান প্রস্তুত করতে গেলে প্রতি মণে আরও ৫-৭ কেজি কমে যায়। এছাড়া সরকারি গুদামে ধান বিক্রিতে বাড়তি পরিবহন খরচ, বিক্রয়ে অনিশ্চয়তা এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ নানা প্রক্রিয়াগত জটিলতায় পড়তে হয়। এ কারণে খোলাবাজারেই ধান বিক্রি করছেন অনেকে।
এ অঞ্চলের চাষিরা জানান, ‘দুই দিন আগেও ধানের দাম একটু বেশি ছিল। কিন্তু হঠাৎ কমে গেছে। ধানের দাম এত কম থাকলে চাষিরা লোকসানে পড়বেন।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো.আবুল কালাম আজাদ জানান,’এবার আবহাওয়া ভালো ছিল, এ কারণে ফলনও ভালো হয়েছে। কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবার সরকারিভাবে কেজিতে ৪ টাকা বেশি দাম দিয়ে ধান সংগ্রহ করা হবে।