বাউফলে বিজয় মিছিলে যোগ দেওয়ায় জামায়াত সমর্থককে বিএনপি নেতার মারধর

জাহিদ মুন্সি, বাউফল-পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর বাউফলে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র জণতার গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি বিজয় মিছিলে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াতের এক সমর্থককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে । আহত জামায়াত সমর্থক  ফারুক হাওলাদার (৬০) বর্তমানে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ।
৬ আগষ্ট (বুধবার) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের আয়নাবাজ গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসারত আহত ফারুক হাওলাদার (৬০) বলেন, প্রথমত, ঢাকায় ১৯ জুলাই ২০২৫ ইংঃ জামায়াতের ঐতিহাসিক সমাবেশে আমি যোগদান করার পর থেকে ওই বিএনপি নেতার টার্গেটে পরি। দ্বিতীয়ত, ৫ আগস্টে বাউফলে জামায়াতের আনন্দ মিছিলে যোগদান করায় আমার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে আজ ৬ আগস্ট সকালে বিএনপি নেতা জসিম পঞ্চায়েত ও তার লোকজন আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। একইসাথে আমাকে বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালি দেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে জামায়াত সমর্থক  ফারুক বলেন, আমাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে কুকুরের মতো মেরেছে ওরা। আমি অসুস্থ আমাকে মারিস না বলার পরেও তারা থামেনি। আমাকে পুরো শরীরে আঘাত করা হয়েছে। আমার অন্ডকোষে লাথি দেয়ায় আমি মারাত্মক যন্ত্রণা সহ্য করতেছি। আমাকে ওরা হুমকি দিয়েছে যে- তুই জামায়াত করিস তুই আজকে দিনের মধ্যে কালাইয়া ছাড়বি। তানা হলে তোকে মেরে ফেলবো ।
 মারধরে আহত ফারুকের স্ত্রী বিউটি বেগম (৫৫) বলেন, আমার স্বামী নানা রোগে আক্রান্ত। আমার স্বামীকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করে বিএনপি নেতা জসিম পঞ্চায়েত বলেন, আজকে দিনের মধ্যে দেশ ছাড়বি। কালাইয়ায় কোনো জামায়াতের রাজনীতি চলবে না। তোরা যদি দেশ না ছাড়িস তাহলে তোদের খবর আছে। আমরা এই ঘটনায় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি এখন।
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক কালাইয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সহ-সভাপতি তাসনিম আলম বলেন, দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা বিভিন্ন দাওয়াতি কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করি। তারা সেখানে প্রতিনিয়ত বাধা দিচ্ছে। আমাদের সাংগঠনিক কাজ করতে দিচ্ছে না বিএনপির কথিত ওই নেতারা। আয়নাবাজে কোনো জামায়াত থাকতে পারবে না, তারা হুমকি দিচ্ছে- যেসব নারীরা জামায়াত করবে তাদেরকে বেইজ্জতি করা হবে। আমরা জীবন ঝুকিতে আছি ।
অভিযোগ অস্বীকার করে এ বিষয়ে সাবেক কালাইয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জসিম পঞ্চায়েত বলেন, ফারুক হাওলাদার আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী ছিলো। তাকে আমি বলেছি এখন বিএনপি করো। তুমি জামায়াত করবা কেনো? কিন্তু তিনি আমার কথায় রাজি হয়নি। তিনি জামায়াতের রাজনীতিই করছিলো। এটি নিয়ে তার সাথে উচ্চবাচ্য হয়েছিল। তবে তাকে আমি মারিনি ।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতারুজ্জামান সরকার বলেন, ঘটনা শুনেছি । কিন্তু এখন পর্যন্ত অভিযোগ পাইনি । অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *