কেশবপুরে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার

শামীম আখতার (নিজস্ব প্রতিবেদক)ঃ যশোরের কেশবপুরে তারেক সরদার (২৩) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার গৌরিঘোনা গ্রামের দক্ষিণপাড়ার রেজাউল গাজীর ঘাস ক্ষেত থেকে ওই লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা তাকে মারপিট ও শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের কান দিয়ে রক্ত বের হওয়া এবং গলায় ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। সে গৌরিঘোনা গ্রামের মৃত শহিদুল সরদারের ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গৌরিঘোনা গ্রামের মৃত শহিদুল সরদারের দিনমজুর ছেলে তারেক সরদারের সাথে গত ৫বছর আগে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার বরাতিয়া গ্রামের বিল্লাল গাজীর মেয়ে রিমা খাতুনের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের বেশ কিছুদিন পর থেকেই স্ত্রীকে নিয়ে তারেক সরদার শশুর বাড়িতে থাকেন। সে ভ্যান চালানোর পাশাপাশি পরের দিনমজুরির কাজ করে দিনাতিপাত করতো। সে ডুমুরিয়া উপজেলার বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করতো। গত বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকালে গৌরিঘোনা গ্রামের রেজাউলের ঘাসক্ষেতে মৃতদেহটি এলাকাবাসী দেখতে পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ থানায় নিয়ে আসেন।

নিহতের স্ত্রী রিমা খাতুন বলেন, বিবাহের প্রায় দেড় বছর পর থেকে আমাকে নিয়ে তারেক শশুর বাড়িতে থাকতো। পরে ডুমুরিয়া উপজেলার বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করতাম। আমাদের সংসার জীবনে তরিকুল ইসলাম নামে দুই বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সেই ছেলের জ্বর থাকায় গত ১৩ আগস্ট (বুধবার) সকালে আমাকে সাথে নিয়ে কাঁঠালতলা বাজারে ছেলেকে ডাক্তার দেখানোর পর আমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে আমার স্বামী ওইদিন বিকেল ৪টার দিকে বাড়িতে গিয়ে আবার চলে আসে। আমার স্বামীকে কে-বা কারা মেরে ফেলেছে সেটা আমি জানিনা। আমার স্বামীর হত্যাকারীদের সঠিক বিচার চাই। 

নিহতের বড়ভাই মফিজুর রহমান বলেন, আমার ভাই বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শশুর বাড়িতে থাকে। সংসার জীবনে স্বামী ও স্ত্রী মধ্যে বেশ কয়েকবার গন্ডগোল হয়েছে। সেটা দু-তিনবার মিমাংসা করা হয়েছে। আমার ভাইয়ের সাথে তেমন কারো শত্রুতা ছিলোনা। আমার ভাইকে কে-বা কারা মেরে ফেলে রেখেছে সেটা বলতে পারছিনা। এই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

লাশ উদ্ধারের বিষয়ে কেশবপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) খান শরীফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক ধারণা তাকে মারপিট ও শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে অজ্ঞাতনামা হত্যাকারীরা তাকে হত্যা করে ঘাস ক্ষেতে লাশ ফেলে রেখে গেছে। লাশের গলায় ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং একটি কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। 

এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। হত্যার ঘটনাটি ক্লুলেস হওয়ায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে, হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *