তৌফিকা সুলতানা ঋতু, প্রতিনিধি কাপাসিয়া, গাজীপুরঃ গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার নরোত্তমপুর এলাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ইফতার ও দোয়া মাহফিল। ৬ মার্চ স্থানীয় যুবকদের অংশগ্রহণে ভাওয়াল যুব কল্যাণ সংগঠন–এর উদ্যোগে হিজলগাছের নিচে ধানের ক্ষেতে এই আয়োজন করা হয়। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার যুবক ও সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। সবুজ প্রকৃতির মাঝে অনুষ্ঠিত ইফতার আয়োজনটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ভিন্নধর্মী অনুভূতি সৃষ্টি করে এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হয়।
ইফতারের আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা যুবসমাজের ঐক্য, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনায় বলা হয়, যুবকদের সংগঠিত করে ইতিবাচক ও কল্যাণমুখী কাজে সম্পৃক্ত করা গেলে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি লেখক তৌফিক সুলতান স্যার। তিনি বলেন, যুবসমাজ সমাজের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এবং তাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হবে। তিনি জানান, সংগঠনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অসহায় মানুষের সহায়তার মতো বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য একটি স্বাধীন অস্থায়ী কমিটি গঠনের বিষয়েও তিনি মতামত তুলে ধরেন।
সংগঠনের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হোসাইন বলেন, একটি সংগঠনকে কার্যকর করতে সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সংগঠনের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি এবং যুবকদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় সংগঠনের সদস্য মাহফুজ, জাহিদ, মো. ফয়সাল, রিফাত, নাহিদসহ আরও কয়েকজন সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তারা এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ফকির বলেন, যুবকদের মধ্যে নেতৃত্ব বিকাশ, সমাজসেবামূলক কাজে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা রাখাই সংগঠনের লক্ষ্য। তিনি মনে করেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
ইফতারের পর দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে সমাজের শান্তি, দেশের কল্যাণ, যুবসমাজের উন্নয়ন এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের সফলতা কামনা করা হয়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।