৬-৭ বিঘা জমি নদীতে এমপিকে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন জনগন

মাহমুদুর রহমান (তুরান) ফরিদপুরঃ  ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী এলাকার নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।

আজ সকাল ১১টার দিকে সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী এলাকায় নদীভাঙন পরিদর্শনে যান সংসদ সদস্য। এ সময় ভাঙনকবলিত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন।

পরিদর্শনের সময় নদীভাঙনে চাষের জমি হারানো সেলিনা বেগম (৪০) নামের এক নারী সংসদ সদস্যকে সামনে পেয়ে কেঁদে ফেলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি নদীভাঙন থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষার ব্যবস্থা এবং নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

সেলিনা বেগম আরো বলেন, ‘গত কয়েক বছরে নদীভাঙনে আমার ৬ থেকে ৭ বিঘা কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে বসতভিটাও হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।’

সেলিনা বেগমের মতো নদীপাড়ের আরও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাও তাদের দুর্ভোগ, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি হারানোর আশঙ্কার কথা সংসদ সদস্যের কাছে তুলে ধরেন। তারা দ্রুত কার্যকর ও টেকসই নদীশাসনের দাবি জানান।

সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, নদীভাঙন সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা করা হয়েছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি জানান, জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নদীতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদীশাসনের উদ্যোগও নেওয়া হবে।

বর্তমানে সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী ও বেপারীডাঙ্গী এবং আকোটেরচর ইউনিয়নের ছলেনামা ও আকোট গ্রামে তীব্র নদীভাঙন চলছে। ইতোমধ্যে শত শত বিঘা কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আকোট জনসংঘ উচ্চবিদ্যালয়, আশ্রয়ণ ও গুচ্ছগ্রাম, দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিয়াজখালী বাজার, আকোট গুচ্ছগ্রামসহ প্রায় ১০টি গ্রাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *