হাকিকুল ইসলাম খোকন, প্রতিনিধি আমেরিকা : শিক্ষাকে জাতির মেরুদন্ড বলা হয়।
কিছু অসাধু অদক্ষ, অযোগ্য বা দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তির হাতে দায়িত্ব অর্পণ জাতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি।
ইন্টারন্যাশনাল রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের আহবায়ক ও প্রতিষ্ঠাতা দেশবন্ধু এডভোকেট এএনএম ঈসা বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। তাদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা যেমন দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অদক্ষ, অযোগ্য বা দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়াও জাতির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। রংধনু নারী ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান লায়ন শাহিদা পারভীন রতনা ও প্রধান উপদেষ্টা নাসরিন আক্তার তরফদার রউফ ও রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবার বলছেন,রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের বছরের পর বছর পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন। কিন্তু তাদের প্রকৃত সমস্যা, অধিকার এবং দীর্ঘদিনের ছয় দফা দাবির প্রতি এখনও প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উৎস হিসেবে নয়, জাতীয় উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে।
অ্যাডভোকেট এএনএম ঈসা বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যোগ্যতা, সততা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে তার ক্ষতিকর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে পুরো জাতিকে বহন করতে হয়। অযোগ্য নেতৃত্বের ফলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হয়, উন্নয়ন প্রকল্পে অপচয় বাড়ে এবং প্রশাসনিক অকার্যকারিতা সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও বলেন, অযোগ্যতা অনেক সময় দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও তোষামোদকে উৎসাহিত করে। এর ফলে মেধাবী, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিরা পিছিয়ে পড়েন এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জনআস্থা কমে যায়। আইন, বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে তার প্রভাব দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনে পড়ে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, দক্ষ পরিকল্পনা ও সুশাসনের অভাবে জাতীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার ব্যাহত হয়, কর্মসংস্থান কমে যায়, উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায় এবং অর্থনীতি সংকটে পড়ে। একই সঙ্গে সামাজিক বৈষম্য, অপরাধ, অনিয়ম ও নৈরাজ্য বৃদ্ধি পায়, যা আইনের শাসন ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করে।
সংগঠনের সদস্য সচিব এমএ রউফ(কাতার)সরকার, বিরোধী দল, সংসদের সকল সম্মানিত সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে যোগ্য, দক্ষ, সৎ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের৷ সম্মান করা মানে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সম্মান করা। আর যোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত করা মানে দেশের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করা।”