জুলাইয়ের দ্বিতীয় বার্ষিকী পর্যালোচনা, ঐক্য ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রবাসীদের কৌশলগত আলোচনা . Patriots of Bangladesh Abong Bangladesh Forum Aeyejone

নিজেস্ব প্রতিবেদক নিউইয়র্ক : ৮ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী কর্মসূচির সার্বিক পর্যালোচনা, প্রবাসীদের মধ্যে ঐক্য আরও সুদৃঢ় করা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে একটি কার্যকর থিংক ট্যাংক স্ট্র্যাটেজি ‘IGPD’ গঠনের প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ড. শেখ মিজান এবং সার্বিক পরিচালনা করেন আব্দুল কাদের। প্রধান বক্তব্য রাখেন কাজল চৌধুরী। মূল আলোচনায় অংশ নেন আজিজুর রহমান, রহমত উল্লাহ, হাজী আনোয়ার হোসাইন লিটন, রেজাউল করিম, আব্দুল হামিদ, আব্দুল আলিম, আলম চৌধুরী ও কবির আহমেদসহ অন্যান্যরা।
আজিজুর রহমান ও রহমত উল্লাহ বলেন, দেশের স্বার্থ ও জুলাইয়ের অর্জনের প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না। জুলাইয়ের চেতনা ও বাস্তব লক্ষ্যকে প্রতিষ্ঠা করাই এখন প্রধান দায়িত্ব।
কাজল চৌধুরী বলেন, জুলাই শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়—এটি জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সবাইকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

রেজাউল করিম বলেন, ৮ আগস্টের দ্বিতীয় বার্ষিকী অনুষ্ঠান অত্যন্ত সফল ও মর্যাদাপূর্ণ হয়েছে। এই অর্জনকে ধরে রেখে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে জুলাইয়ের বার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে হবে।

আব্দুল হামিদ বলেন, প্রবাস থেকে জুলাইয়ের চেতনাকে শক্তিশালী করতে হলে ঐক্য, ধারাবাহিক কর্মসূচি এবং সাংগঠনিক সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। হাজী আনোয়ার হোসাইন লিটন বলেন, জনগণ কোনো চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ বা অন্যায়কারীকে সমর্থন করার জন্য আত্মত্যাগ করেনি। সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
দিপু চৌধুরী বলেন, “জুলাইয়ের চেতনা ও জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রবাস থেকে শুধু আলোচনা নয়, বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের মাধ্যমে জুলাইয়ের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশের স্বার্থ, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকারই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”
আব্দুল আলিম বলেন, প্রবাস থেকে জুলাইয়ের বার্তা যেন কখনো থেমে না যায়। নতুন প্রজন্ম ও আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগ, ন্যায়বিচারের দাবি এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরতে হবে।
আলম চৌধুরী বলেন, প্রবাসীদের সংগঠিত উদ্যোগের মাধ্যমে জুলাইয়ের লক্ষ্য বাস্তবায়নের পক্ষে দেশে একটি স্পষ্ট ও ইতিবাচক বার্তা পাঠাতে হবে।

কবির আহমেদ বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ”—এই নীতির ভিত্তিতেই সবাইকে কাজ করতে হবে। দল, মত ও ব্যক্তিগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থ, জনগণের অধিকার এবং দেশের ভবিষ্যৎকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. শেখ মিজান দৃঢ়ভাবে বলেন, জুলাই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক সম্পদ নয়; এটি জনগণের ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস। জুলাই সনদকে বাস্তব রূপ দিতে হলে ঐক্য, জবাবদিহি এবং সুস্পষ্ট কৌশল নিয়ে এগোতে হবে। এজন্য গবেষণা, নীতি বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় একটি শক্তিশালী IGPD থিংক ট্যাংক গড়ে তোলার প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনার সমাপ্তিতে আব্দুল কাদের বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রবাস থেকে ঐক্যবদ্ধ, গবেষণাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ অব্যাহত থাকবে। জুলাইয়ের অর্জন রক্ষা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থ—এই তিনটি বিষয়ই ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের মূল ভিত্তি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *