বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল পোর্ট থানাধীন কাগজপুকুর গ্রামের আলোচিত কিবরিয়া ফিলিং স্টেশনের জমি জবরদখল, মারপিট এবং প্রতারণার মামলায় আন্তর্জাতিক মানের জালিয়াত চক্রের সদস্য আনোয়ার হোসেনকে (৫০) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর ) বেলা ১২টার দিকে যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তার আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ার হোসেন শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামের মৃত দুদু মিয়ার ছেলে। এ মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন মো. জামাল হোসেন (৪২), মো. কামাল হোসেন (৩৫), এবং মো. মিলন হোসেন (৪৪)।
বেনাপোল পোর্ট থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, মৃত গোলাম কিবরিয়ার ছেলে ফারদিন কিবরিয়া বাদী হয়ে গত ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল পোর্ট থানাধীন কাগজপুকুর গ্রামের যশোর-বেনাপোল পাকা রাস্তার পাশে অবস্থিত ‘তনিমা ফিলিং স্টেশন’ জবরদখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছিল।
এ সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও গত ১২ আগস্ট বিকেলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে ফিলিং স্টেশনে প্রবেশ করে। এ সময় তারা ফিলিং স্টেশনের স্টাফদের হত্যার হুমকি দেয় এবং ক্যাশ বাক্স ভেঙে নগদ টাকা লুট করে। বাধা দিতে গেলে বাদী ফারদিন কিবরিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসামিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কিবরিয়া ফিলিং স্টেশনের জমি আত্মসাতের জন্য আনোয়ার হোসেন বিভিন্ন ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে আদালতে দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত ওই কাগজপত্রগুলো জাল ও ভুয়া বলে প্রমাণ করেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্রের সক্রিয় সদস্য। এর আগেও তিনি ব্যাংক থেকে নিজের ভোটার আইডি কার্ড পরিবর্তন ও জালিয়াতির মাধ্যমে লোন নিয়ে জেল খেটেছিলেন। তার এই অভিনব প্রতারণা ও জালিয়াতির কর্মকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কিবরিয়া ফিলিং স্টেশনের জমি জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা সিআর ১৫০/২৫ নম্বর মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং জালিয়াতির প্রমাণ মেলায় আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আসামিকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।