শামীম আখতার (নিজস্ব প্রতিবেদক) ফ্যামালি কার্ড কার্যক্রমের যশোরের কেশবপুর উপজেলাব্যাপী তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে ওই প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন এর সভাপতিত্বে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবীর বিশ্বাস।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ রোকনুজ্জামান।
প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় অর্জনের বিষয়টি বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এরই অংশ হিসেবে পরিবারের নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের যুগান্তকারী কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচী বাস্তবায়নে সরকার যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য আজকের এই প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে।
গত ১০ মার্চ-২০২৬ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে (জুন-২০২৬ পর্যন্ত সময়ে) দেশের ৮টি বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে মোট ১,১২,০৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১,৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদান করা হয়েছে। পাইলটিং কার্যক্রম পরিচালনায় বরাদ্দকৃত ৮৬.৬০ কোটি টাকার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৬৫.৭৩ কোটি টাকা যার মধ্যে ৫৭.২০ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।
জুলাই-২০২৬ হতে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৪’হাজার পাঁচশত কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২’হাজার তিনশত কোটি টাকা ভাতা হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক হালনাগাদকৃত প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে দেশের সকল পরিবার-কে আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ৫টি কোয়াইন্টালে (অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত) বিভাজন করা হয়েছে। পিএমটি স্কোর অনুযায়ী ৮৬০ নম্বর বা তার কম নম্বর প্রাপ্ত নারী পরিবার প্রধান ভাতা প্রাপ্তির যোগ্য বিবেচিত হবেন। সকল নারী পরিবার প্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে শুধু ১ম, ২য় এবং ৩য় কোয়াইন্টালভুক্ত (নিম্ন স্কোর প্রাপ্ত পরিবার) নারী পরিবার প্রধান ভাতা পাবেন।
তারই ধারাবাহিকতায় আজ ১২ অক্টোবর-২০২৬ তারিখ হতে দেশব্যাপী একযোগে সকল এলাকার খানা/পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডার এর তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের জন্য ৬৬,৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬,৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মীগণকে এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের ১ম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ প্রদান সম্পন্ন করা হয়েছে। কর্মীগণ মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইস এর মাধ্যমে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করবে এবং সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে ইনপুট করবে। এটি কার্যকরভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে মোবাইল সিম কার্ড সংগ্রহ, Network Based Cyber Security, Work Force Management, Network Operation Center (NOC) room স্থাপন ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ পদ্ধতিতে ডিসেম্বর-২০২৬ এর মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক ৪.৪৫ কোটি পরিবারের (প্রতি ৫ জন সদস্য মিলে একটি পরিবার) তথ্য সংগ্রহ ও ডেটাবেইজে ইনপুট প্রদান করা হবে। পিএমটি পদ্ধতিতে ডেটাবেইজ হতে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন সম্পন্ন হবে। বর্তমান অর্থবছরে নতুন ৪০ লক্ষ নারী পরিবার প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী ০৩ অর্থবছরে যোগ্য সকল নারী পরিবার প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা এর আওতায় আনা হবে। উপকারভোগীগণকে প্রদেয় ফ্যামিলি কার্ডটি Dual Chip, QR Code Near Field Communication (NFC) সুবিধা সম্বলিত যা সরকারের TakaPay পেমেন্ট স্কীমের সাথে সংযুক্ত থাকবে। এই কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগীগণ ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণি বিতানের Point of Sales (POS) এবং Mobile Financial Services (MFS) হতে ভাতা উত্তোলন করতে পারবেন।
প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠানে সারাদেশের ন্যায় কেশবপুর উপজেলায় ১২জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৩ জন সুপারভাইজারের মাঝে ১৫টি বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইস বিতরণ করা হয়েছে। এ উপজেলার ২নং সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন, ৪নং বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়ন এবং মঙ্গলকোট ইউনিয়নের ১, ৩, ও ৭ ওয়ার্ডে “ফ্যামিলি কার্ড” এর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হবে। পর্যায়ক্রমে উপজেলাব্যাপী সকল পরিবারের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন করা হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক হাজী রুহুল কুদ্দুস, ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা কেশবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি শামীম আখতার মুকুল, সহসভাপতি এনামুল হাসান নাঈম, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম মুর্শিদী, সাংবাদিক রনি হোসেন, সাদিক হোসাইন, আলী হামজা-সহ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।