মো: আনিছুর রহমান, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: ভারতীয় আমদানিকৃত পণ্য নিয়ে আসা ফেলে যাওয়া ট্রাক প্রায় আড়াইমাস পরে কাস্টমস খোলার পর বিপুল পরিমান কাগজপত্র বিহীন নিষিদ্ধ মেডিসিন, শাড়ী, থ্রি-পিচ,চাদর, কসমেটিক্স, বডি স্প্রে উদ্ধার হয়েছে। তবে ভারতীয় ট্রাক এইচ আর ৩৮আই২৪৮২ নং ট্রাকে গাড়ির অর্ধেক পণ্য পাওয়া যাওয়ায় বাকি পণ সরানো হয়েছে বলে নানা ধরনের গুঞ্জন উঠেছে।
সোমবার বেলা ১ টার সময় ট্রাকটি খুলে কাগজপত্র বিহীন বিপুল পরিমান এসব পণ্য গননা করে গাড়িতে সিলগালা করে চলে যায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এসময় তারা সাংবাদিকদের তথ্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে।
দেশের বৃহৎস্থল বন্দর বেনাপোল। কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে দিয়ে কে বা কারা ট্রাক ঢুকালো এ তথ্য দিতে আজও টালবাহানা করছে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ।
সুত্র মতে গত ২৫/০৯/২০২৫ ইং তারিখে ভারত থেকে ট্রাকটি বেনাপোল স্থল বন্দরের কার্গো ভেহিকেল ইয়ার্ডে প্রবেশ করে। ট্রাক প্রবেশ এর পর গুঞ্জন উঠে ট্রাকটি রেখে হেলপার ড্রাইভার পালিয়ে গেছে ভারতে। তাহলে কি ওই ট্রাক নিয়ে সন্দেহ ছিল ট্রাকটি কাগজপত্র বিহীন অথবা অবৈধ পণ্য ছিল। এটা জানাজানি হওয়ার জন্য কি ট্রাক চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়।
স্থানীয় আমদানি রফতানি কারক ও সিএনএফ সদস্যদের ও এ নিয়ে রয়েছে নানা সন্দেহ। তারা মনে করে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে কি ভাবে এ পণ্য বাহি ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করল। ট্রাক প্রবেশের সময় বিজিবি স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস কাগজপত্র দেখে শুনে দেশে প্রবেশ করার অনুমতি দিলে কেবল প্রবেশ করতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিএনএফ কর্মচারী বলেন ট্রাকটি ভারতীয় পণ্যে ভরটা ছিল। তার কারন ট্রাকের পিছেনে তালা কাটা এবং তা পুনরায় ঝালাই করা দেখা যাচ্ছে। আজ ট্রাক খুললে তার মধ্যে হাফ ট্রাক পণ্য পাওয়া যায়। এই দীর্ঘ সময় স্থল বন্দরে ট্রাকটি আটকে থাকায় যারা পণ্য আমদানি করেছে তারাই তালা দেওয়ার অংশ কেটে পণ্য বের করে আবার ঝালাই করে রেখেছে। এর সাথে কাস্টমস এবং বন্দরের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে কাস্টমস কমিশনার খালেদ মোহাম্মাদ আবু হোসেন এবং সহকারী কমিশনার অতুল গোস্বামী কে ফোন দিলে তারা ফোন রিসিভ করেন নাই।
বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, আমরাই বিগত আড়াই মাস পুর্বে ট্রাকটি আটক করে কাস্টমসকে অবহিত করি। এখন ওই ভারতীয় ট্রাক ও পণ্য কি আছে তা দেখার বিষয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের।
উল্লেখ্য ভারত থেকে ট্রাক ট্রাক পণ্য ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যেমে বৈধ পথে চোরাচালানি পণ্য নিয়ে আসে। আর ওই পণ্য সরকার হারায় কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। আবার কখনো কখনো আমদানি পণ্যর মধ্যে আসে ভারতীয় মদ ফেনসিডিল,ব্লেড ও ঘোষনা বহির্ভুত বিভিন্ন পণ্য। সম্প্রতি বেনাপোল স্থল বন্দর থেকে বের হওয়ার পর আড়াই কোটি টাকার পণ্য বিজিবির হাতে আটক হয়। আর তার জন্য চাকুরী যায় দুই জন আনছার কমান্ডারের। স্থানীয় ব্যবসায়িরা মনে করে এসব অবৈধ কারবারের সাথে বন্দর কাস্টমস জড়িত না থাকলে ভারত থেকে ট্রাকে করে কাগজপত্র বিহীন পণ্য আনা সম্ভব না।