‘আমার বাচ্চাটাকে ছেড়ে দিন ভাই’

এ সময় ওই নারী শিশুটিকে নিজের সন্তান বলে পরিচয় দেন। চিৎকার করে বলেন, ‘আমার বাচ্চাটাকে ছেড়ে দিন ভাই। কাল ছেলেটার পরীক্ষা। সে মনিপুর স্কুলে পড়ে। তার জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে।’ পরে প্রিজনভ্যানটি নয়াপল্টন থেকে নিয়ে যায় পুলিশ।

বুধবার বেলা তিনটার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির নেতা–কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সংঘর্ষে এ পর্যন্ত একজন নিহত হয়েছেন। পরে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে পুলিশ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান শুরু করে। সেখান থেকে দলটির কয়েক শ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত চলে পুলিশের আটক অভিযান। পুলিশ কার্যালয়ের ভেতরে তল্লাশি চালায়, যা শেষ হয় রাত নয়টায়। এরপর ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ নয়াপল্টনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, এই অভিযানে ৩০০ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

বুধবার রাতেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নয়াপল্টনে নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশের হামলা, গুলি ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সারা দেশে জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি।

নয়াপল্টনে নিহত ব্যক্তির নাম মকবুল আহমেদ। তাঁর বাসা ঢাকার মিরপুরের বাউনিয়া বাঁধ এলাকায়। বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সংঘর্ষের সময় নয়াপল্টনে ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। তিনি বিএনপির আহত নেতা-কর্মীদের উদ্ধারে কাজ করেছেন। নিহত মকবুল আহমেদকে তিনি হাসপাতালে নিয়েছেন। তিনি প্রথম আলো বলেন, বিএনপির কার্যালয়ের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে মকবুল আহমেদকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল পৌনে চারটায় তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মকবুলের শরীরে ছররা গুলির আঘাতের অনেকগুলো চিহ্ন রয়েছে।

সংঘর্ষে কতজন আহত হয়েছেন, তা নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, নয়াপল্টনে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত মকবুলসহ ২৬ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে এক পুলিশ ও দুই বিএনপির নেতাকে ভর্তি করা হয়। বাকিরা জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে চলে যান। আহত ব্যক্তিদের প্রায় সবার শরীরে কমবেশি ছররা গুলির চিহ্ন রয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালেও অনেককে নেওয়া হয়েছে বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে।

এ ছাড়া একজন সাংবাদিকও আহত হন বলে জানা গেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নয়াপল্টনে সাংবাদিকদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *