মোঃ মোকাররম হোসাইন, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ জয়পুরহাটে কালাই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে শাক-সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে চলেছে। সম্প্রতি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে পাগলা ঘোড়ার মতো লাগামহীনভাবে বেড়ে চলেছে, এসব পণ্য সামগ্রীর দাম। আর সংসারের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে সমাজের মধ্যবিত্তসহ কর্মহীন সাধারণ মানুষ রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে। সপ্তাহের শেষে বাজার করতে গেলে গত সপ্তাহের বাজারের হিসাব মিলছে না ক্রেতাদের।
এ দিকে বাজারদর নিয়ন্ত্রণে আনতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দু-একটি অভিযান ছাড়া প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ ক্রেতাদের ।
আজ শনিবার (২৬শে আগস্ট)কালাই উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভারসহ সব এলাকার দোকান ও হাট-বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে যে কালাই বাজারে এসে দেশি পেঁয়াজ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা, এক কেজি কাঁচামরিচ২০০ টাকা,রসুন ২৪০ টাকা, আদা ২৫০ টাকা, মসূরডাল ৯০ টাকা,আটা ৫৫ টাকা, চিনি১৩০ টাকা, কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ।এ ছাড়াও সয়াবিন তেল ১৯০ টাকা লিটার, এক হালি ডিমের দাম ৫০টাকা, কেজিতে দেশী আলু ৫০ টাকা,পটল৪০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, করলা ৮০ টাকা,কাঁকরোল৬০টাকা, ছিম ২০০ টাকা ,একেকটি লাউ (প্রতি পিস) ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা,শসা ৬০ টাকা,কচুরবই ৬০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা, কচুরলতি ৭০ টাকা, শুকনো মরিচ ৪৫০ টাকা, দরে কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
অন্য দিকে মাছ-মাংসের বাজারও আকাশ ছোঁয়া। রুই ৩৫০ টাকা,পাঙ্গাস২০০টাকা, কাতল ৩৫০ টাকা,সিলভার১৯০ টাকা,তেলাপিয়া ২০০ টাকা, জাপানি ২০০ টাকা, এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ এক হাজার ৫০০ টাকা, এক কেজি পাবদা ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে । বয়লার মুরগির দাম কেজি প্রতি ১৮০ টাকা,সোনালী মুরগির দাম ২৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতারা বলছে,অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে যাচ্ছে নিত্যপণ্যের দাম ।আয়ের সঙ্গে মানুষ তাঁর ব্যয়ের সামঞ্জস্য খুঁজে পাচ্ছে না । বাজার নিয়ন্ত্রণে তদারকি না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে ।
বিক্রেতারা বলছেন, বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় বাড়ছে দাম । তাছাড়া পাইকারি বাজারে কিনতে বেশি হওয়া বেশি দামে বিক্রি করছি আমরা ।
কালাই বাসস্ট্যান্ডে বাজার করতে আসা ভ্যান চালক রুবেল বলেন,মাসে সর্বোচ্চ দুদিন মাংস খেতে পারি না ।।মাছও নিয়মিত খাওয়া হয় না। বেশির ভাগ সময় ডাল-ভর্তা-ভাত খেয়েই দিন কাটে।
কালাই বাজার করতে আসা পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক নূর আলম মল্লিক বলেন, বাজার করতেই মাসের বেতন শেষ হয়ে যাচ্ছে, আর আয়ের সঙ্গে বাড়তি ব্যয়ের হিসাব মেলাতে পারছে না, স্বল্প আয়ের মানুষ। মাস শেষে পাওয়া বেতনের পুরোটাই চলে যাচ্ছ নিত্যপণ্যের বাজারে। গরুর মাংস কেনার সামর্থ্য হয় না।
মোসলেমগঞ্জ বাজার করতে আসা কৃষক কামিরুল বলেন, সবকিছুর যে দাম তাতে মাসে ৪ হাজার টাকা লেগে যায় সবজি কিনতে।ফলে সীমিত আয়ে কিছুতেই সংসারের খরচ মেলাতে পারছি না।এমনকি মাঝে মধ্যেই সহকর্মীদের কাছ থেকে ধারদেনা করতে হয়।
কালাই হাটের কাঁচামালের ব্যবসায়ীকে ছানোয়ার হোসেন ও সাইদুর রহমান বলেন, দাম বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাভাবিক কারণে বাজারে কিছু পণ্যের দাম ওঠা মানা করে । যেমন আমদানি রপ্তানি কম থাকায় পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে ।আমদানি স্বাভাবিক হলে দাম কমে যাবে ।
কলাই পাঁচশিরা বাজারে মাছ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন,চাহিদা বেশি থাকায় কেজিতে সব ধরনের মাছের দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা বাড়ছে ।বেশি দামে কিনছি এ জন্য বেশি দামেই বিক্রি করতে হয়।
এবিষয়ে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাত আরা তিথি কালের সংবাদ বলেন, প্রতিনিয়ত বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন ও বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবসায়ীকদের নিয়ে নানা রকম সচেতনতা বাড়িয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে । উপজেলার হাট-বাজার নিয়ন্ত্রণে জন্য আরও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে । এরপরও যারা দ্রব্যমূল্যের দাম বেশি ধরবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে ।