ভুয়া কাজীদের দৌরাত্ম্যে বাড়ছে বাল্যবিয়ে

মোহাম্মদ আককাস আলী প্রতিনিধি নওগাঁ মহাদেবপুর : ভুয়া কাজীদের (নিকাহ রেজিস্ট্রার)দৌরাত্ম্যে বাড়ছে বাল্যবিয়ে অভিযোগে প্রকাশ, ওইসব কাজীরা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে বিয়ে রেজিস্ট্রি করে বিপদে ফেলছেন গ্রামের সহজ-সরল পরিবারগুলোকে।

সূত্রমতে জানা যায়, ওইসব ভুয়া কাজীরা সাধারণত জাল নথি ব্যবহার করে বিয়ে পড়ান। তারা মানুষের অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অবৈধ বিয়ে, অবৈধ তালাকনামা ও বিয়ের ভূয়া নকল সনদ তৈরি করে বিপদে ফেলছেন মানুষকে।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভুয়া কাজীদের মাধ্যমে নাবালক-বালিকাদের অবৈধভাবে বিয়ে সম্পন্ন করার প্রবণতা দিনে দিনে বাড়ছে। এমন ভুয়া কাজীরা কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নিজেদের ‘রেজিস্টার্ড কাজী’ পরিচয়ে বিয়ে পড়াচ্ছে এবং রেজিস্ট্রি খাতায় নকল এন্ট্রি তৈরি করছে বলেও ভুক্তভোগীরা জানা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাবালিকা বা নাবালক ছেলে-মেয়েদের বিয়ে পড়ানো বাংলাদেশে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। শিশুবিয়ে নিরোধ আইন অনুযায়ী এতে জড়িত কাজী, মধ্যস্থতাকারী, এমনকি অভিভাবকও আইনি শাস্তির আওতায় পড়তে পারেন। ভুয়া কাজীরা এই দুর্বল জায়গাগুলোকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করছে, যা ভবিষ্যতে সমাজে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানায়, ভুয়া কাজীদের কার্যক্রম বন্ধ করতে নাগরিকদের সতর্কতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ে রেজিস্ট্রি করানোর আগে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে-

* কাজীর লাইসেন্স সত্যিকারের সরকারি অনুমোদিত কিনা

* কাজী অফিস স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভায় তালিকাভুক্ত কিনা

* রেজিস্ট্রি বই সরকারি স্টাইলে তৈরি কিনা

*বয়স প্রমাণপত্র (জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধন) সঠিকভাবে যাচাই করা হয়েছে কিনা

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ভুয়া কাজী ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা জরুরি। কেউ প্রতারণার শিকার হলে তা নিকটস্থ থানা, রেজিস্ট্রি অফিস বা স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে পারে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

নাবালক-বালিকা বিয়ের ভয়াবহতা ও ভুয়া কাজীদের প্রতারণা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সামাজিক মাধ্যম এবং গণমাধ্যমে প্রচারণা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন শিশু ও নারী অধিকার সংগঠনগুলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *