মো: আনিছুর রহমান বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের সীমান্ত ঘেঁষা জনপথ বেনাপোল ও শার্শায় মাদকের করাল গ্রাস অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর নাকের ডগায় অবৈধ মাদকের রমরমা কারবার চললেও নেপথ্যের কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও দৃশ্যমান অভিযানের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের। মাঝেমধ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দু’-একটি চালান আটক করলেও সিংহভাগ মাদকই প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ছে।
শার্শা ও বেনাপোল পোর্ট থানার বিভিন্ন গ্রামে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে উঠতি বয়সী যুবসমাজ ও স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিার্থীরা আজ মাদকের ভয়াল থাবায় আবদ্ধ। সন্তান নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবকরা। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই বললেই চলে।
বেনাপোল পোর্ট থানার পূর্ব পাশের ভবেরবেড় এলাকায় প্রকাশ্যে ফেনসিডিল, ইয়াবা ও এসকাফ সিরাপের কারবার চললেও প্রতিকার নেই। এছাড়া ভবেরবেড়, কাগজপুকুর, দিঘীরপাড়, কাগমারী, বেনাপোল বাজারের একটি অভিজাত মার্কেট সংলগ্ন পূর্ব পাশ, শাখারী পোতা, বাহাদুরপুর, ধান্যখোলা, রঘুনাথপুর, সাদিপুর, বড়আঁচড়া, গাতীপাড়া, দৌলতপুর, পুটখালী, বারোপোতা, কৃষ্ণপুর এবং শার্শার গোগা, অগ্রভূলাট, পাঁচভূলাট, কায়বা, হরিচন্দ্রপুর, দাতখালী, ভবানীপুর, বাগআঁচড়া, বসতপুর, লক্ষ্মনপুর, , ডিহি ও শাগাতলার অলিগলিতে হাত বাড়ালেই মিলছে মরনেশা মাদক।
এসব এলাকায় পুলিশের নিয়মিত যাতায়াত থাকলেও মাদক উদ্ধার বা মূল কারবারিদের গ্রেপ্তারে চোখে পড়ার মতো কোনো অভিযান নেই।
সম্প্রতি বিজিবির কড়া নজরদারিতে সীমান্ত এলাকা থেকে কিছু নেশাজাতীয় সিরাপ এর চালান উদ্ধার হলেও চোরাকারবারিরা নতুন কৌশল ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে দেশের ভেতরে মাদকের চালান ঠিকই নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে। শার্শা থানা পুলিশের কিছু অভিযানে আংশিক সাফল্য বা মাদক উদ্ধার ও আসামি গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলেও বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকায় কাঙ্তি সাফল্য ও কঠোর অভিযানের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিমত এসব নির্মুল করতে গেলে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো, মাদক সিন্ডিকেটের গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা এবং পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ সাঁড়াশি অভিযান ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব।
সম্প্রতি জাতিয় নির্বাচনের সময় সকল দলের সকল প্রার্থীকে মাদক নিয়ে বড় ভাষায় হুসিয়ারী উচ্চারন করতে বক্তব্য শুনা গেলেও বরং আগের চেয়ে বেড়েছে। কোন ভাবে নেতারা ও প্রশাসনের সাথে সহযোগিতা করে মাদক নির্মুল এর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।