সারমিন সুলতানা চৈতী প্রতিবেদকঃ ‘প্রকৃত ইসলাম প্রতিষ্ঠাই নারীর প্রকৃত মুক্তির পথ’ রবিবার (১৭ আগস্ট, ২০২৫) সকাল ১১ টায় গাইবান্ধায় ‘তওহীদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নারীদের অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভা করেছে হেযবুত তওহীদ। গাইবান্ধা জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে হেযবুত তওহীদের গাইবান্ধা জেলা নারী বিভাগ।
অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম নারী বিষয়ক সম্পাদক আয়েশা সিদ্দিকা। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় নারী বিষয়ক সম্পাদক তাসলিমা ইসলাম, রংপুর বিভাগীয় নারী বিষয়ক সম্পাদক উম্মে হানী ইসলাম।
মূখ্য আলোচক তার বক্তব্যে বলেন, ‘ইসলামপূর্ব আরবের জাহেলিয়াতের সমাজে নারীদেরকে এতটাই বোঝা মনে করা হতো এবং অবমূল্যায়ন করা হত যে মেয়ে শিশুদেরকে তাদের বাবারা জীবন্তই কবর দিয়ে দিত। তাদেরকে দাসী বা ভোগ্যবস্তু হিসেবেও গণ্য করা হতো। ইসলাম আগমনের পর সেই সমাজেই নারীকে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও ক্ষমতা দিয়েছিল। নারীরা তখন শুধু মসজিদে বা ঈদের জামাতেই নয়, বরং প্রশাসনিক ও সামরিক দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিলেন।- বলেন তিনি।
১৪০০ বছর পরে এসে আজও নারীরা নানভাবে হেনস্থা, নিপীড়িত, নির্যাতিত। তারা তাদের ন্যায্য অধিকার, মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আল্লাহর দেওয়া প্রকৃত ইসলাম, তওহীদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থাই নারীদের প্রকৃত অধিকার, মর্যাদা দিতে সক্ষম। সমাজে তাওহীদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় নারীদেরই অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করতে হবে বলে মনে করেন হেযবুত তওহীদের এই নেত্রী।
আমন্ত্রিত অতিথি তাসলিমা ইসলাম বলেন, নারী আল্লাহর এক বিশেষ সৃষ্টি ও নিদর্শন। তাদের সৃজনশীলতা, কর্মকুশলতা, দায়িত্বজ্ঞান, নেতৃত্বের গুণাবলি, সাহসিকতা, জ্ঞান ও যোগ্যতা মোতাবেক তারা রাষ্ট্রে পুরুষের পাশাপাশি ভ‚মিকা রাখবে। ধর্মীয় বিধি-নিষেধের দোহাই দিয়ে বা কোনো প্রকার হুমকি দিয়ে তাদেরকে পিছিয়ে রাখার বা অবরুদ্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। আল্লাহর হুকুম প্রতিষ্ঠায় তিনি নারীদের এগিয়ে আসার আহŸান জানান।
গাইবান্ধা জেলা নারী বিষয়ক সম্পাদক রহিমা বেগমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল এর গাইবান্ধা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পদক ও সমঝোতা নারী উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বেগম আবেয়া গিনি, গাইবান্ধা পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক মহিলা কাউন্সিলর মাহফুজা খান মিতা, ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক মহিলা কাউন্সিলর আঞ্জুয়ারা বেগম, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের যুগ্ম আহŸায়ক মাধুরী সরকার প্রমুখ।
গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন থানা থেকে আগত শত শত নারীর উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় অনুষ্ঠানস্থল। আলোচনা সভাটি নারী সমাজের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ করা যায়।