জয়পুরহাট পৌরসভার রাস্তাগুলো সংস্কারের অভাবে চরম জন দুর্ভোগ

মোঃ মোকাররম হোসাইন জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি:  জয়পুরহাট পৌরসভার শহরের রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সংস্কার না হওয়ায় শহরের বেশির ভাগ রাস্তায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তায় তৈরি  হয়েছে অসংখ্য ছোট ও বড় গর্তের সৃষ্টি। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কের খানাখন্দে পানি জমে। এতে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। তাই সড়কটি নিয়ে ভোগান্তিতে আছেন এলাকার হাজারও মানুষ।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এমন সংকটের মধ্যে থাকলেও কেউ সমাধানের উদ্যোগ নেয়নি। তবে পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি শুনিয়েছেন আশার বাণী।
জানা গেছে, ১৯৭৫ সালের ৮ জানুয়ারি ২০.৭২ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে জয়পুরহাট পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৯১ সালের ১৯ জুন পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণির স্বীকৃতি পায়। কিন্তু প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও বর্তমানে শহরের সড়কগুলোর অবস্থা বেহাল। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে শহরের বৈরাগীর মোড়, চিত্রা রোড, ডিসি চত্বর থেকে সরদারপাড়া রোড, ধানমন্ডি, দেবীপুরসহ শহরের বিভিন্ন সড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। ছোট ছোট গর্ত তৈরি হওয়ায় বৃষ্টি হলে পানি জমে থাকছে। অনেক জায়গায় ড্রেনেজব্যবস্থা নেই। এতে চলাচল করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়ছেন। নতুন সরকারের কাছে তারা সড়কগুলোর দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
পৌর শহরের ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম আলোর সময় পত্রিকা বলেন,একটু বৃষ্টি হলেই ধানমন্ডি মোড় থেকে বিশ্বাসপাড়া বান্ধা বটগাছ পর্যন্ত সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। ওই পানি নামতে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। এখানে পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে বৃষ্টির দিনে এই পথ দিয়ে চলাচল করা যায় না। বিষয়টি নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই।
ওই সড়কে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে ব্যক্তিগত কাজে যাচ্ছিলেন ফরহাদ হোসেন। কথা হয় তার সঙ্গে। শহরের ভাঙাচোরা সড়কগুলো সংস্কারের দাবির পক্ষে মত দিয়ে এই পৌর বাসিন্দা বলেন, ‘খানাখন্দের কারণে আমাদের যাতায়াতে অনেক সমস্যা হয়। বৃষ্টির সময় জমে থাকা ময়লা পানির ছিটায় পোশাক নোংরা হয়। আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন চাই।
শহরের পাকার মাথায় যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন ইজিবাইকচালক রওশন ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শহরে যাত্রী আনা-নেওয়ার কাজ করেন। নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা জানাতে বলেন,শহরের বিভিন্ন সড়কে খানাখন্দের সমস্যা দীর্ঘদিনের। একটু পরপরই গর্ত। আবার বৃষ্টি হলে পানি জমে থাকায় সড়কের গর্তগুলো ভালোভাবে দেখা যায় না। তখন গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পৌরসভা থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরের পথ কোমরগ্রাম। জয়পুরহাট সদর উপজেলার এই গ্রামটি থেকে বাইসাইকেল চালিয়ে শহরের এসেছেন মিজানুর রহমান। ভাঙাচোরা সড়ক আর গর্তের কারণে সাইকেল চালাতে প্রায়ই তাকে সমস্যায় পড়তে হয়। বলেন, ‘বিভিন্ন কাজে আমাকে প্রায়ই শহরে আসতে হয়। কিন্তু এসেই যানজটে পড়ি। কখনো বাইপাস সড়ক দিয়ে শহরে ঢুকি। তখন গর্তের মধ্যে চাকা পড়লে চালাতে কষ্ট হয়। শহরের সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।’
‘নিরাপদ সড়ক চাই’ জয়পুরহাট জেলা শাখার সভাপতি নুর-ই-আলম বলেন,দীর্ঘদিন ধরে দেখছি জয়পুরহাট পৌরসভার সড়কগুলোতে গর্ত হয়ে আছে। হাজার হাজার মানুষ এসব পথে যাতায়াত করতে গিয়ে কষ্ট পাচ্ছেন। অনেক সময় ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটতে দেখি। এতদিন এগুলো সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নিতে দেখিনি। এখন নতুন সরকার এসেছে। সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ নির্বিঘ্ন করতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে তাদের কাছে দাবি থাকবে।’
এ বিষয়ে জয়পুরহাট পৌরসভার প্রশাসক সরকার মোহাম্মদ রায়হান আলোর সময় পত্রিকা বলেন ,পৌরসভার বিভিন্ন সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়টি আমার নজরে আছে। কিন্তু আমরা চাইলেই সবকিছু করতে পারি না। বরাদ্দের বিষয় রয়েছে। চলতি বছর আমরা কোনো বরাদ্দ পাইনি। তবে আশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন,প্রায় আট কোটি টাকার পূর্বের কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি স্কিমে কিছু টেন্ডার হয়ে গেছে। আগামী এক মাসের মধ্যে সেগুলোর কার্যক্রম শুরু করতে পারব। আরও বরাদ্দের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *