মো: আনিছুর রহমান, বেনাপোল প্রতিনিধি: দীর্ঘ ১৭ বছরের অবহেলা আর বঞ্চনা পেছনে ফেলে আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে শার্শার ঐতিহাসিক উলাশী জিয়া খাল। আগামী ২৭ তারিখ প্রধান মন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উলাশী আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনপদে বইছে উৎসবের আমেজ।
১৯৭৬ সালের ১ লা নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে যে বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন, সেই খালের পাড়েই এখন চলছে সাজ সাজ রব।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রণাবেণের অভাবে খালটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল। এর বিরূপ প্রভাব পড়েছিল স্থানীয় কৃষিতে। স্থানীয় কৃষক মনোয়ার হোসেন আপে করে বলেন, “আওয়ামী সরকার খালটি নিয়ে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে বা ভারতের উজান থেকে আসা পানিতে বাড়িঘর ডুবে যেত। খালটি ভরাট হওয়ায় বন্যার পানি নামতে পারত না।”
যশোর সিটি কলেজের অনার্স পড়ুয়া ছাত্র ইমন জানান, খালটি খনন না করায় পানির অভাবে কৃষকরা সময়মতো ফসল ফলাতে পারছে না, যা এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।
তারেক রহমানের আগমন উপলে উলাশী এলাকায় ব্যাপক কর্মব্যস্ততা চলছে সরকারী বিভিন্ন দফতরের লোকজনের। খালের পাড়ের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে এলাকা পরিষ্কার করা হচ্ছে, সংস্কার করা হচ্ছে
প্রধান মন্ত্রী তারেক জিয়ার ভাষন উপলক্ষে খালের পাড়ে বিশাল জনসভার মঞ্চ তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগুচ্ছে।খালের পাশের পুরাতন ঘরগুলো রং করা হচ্ছে এবং পাড় পাকাকরণের কাজ চলছে।খালের মাঝখানে পানি না থাকায় সেখানে দর্শকদের বসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা জন্য সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী এলাকাটি পর্যবেণে রেখেছেন।
স্থানীয় শিক কামরুজ্জামান মনে করেন, এই খালটি পুনরায় চালু হলে কেবল কৃষি নয়, মৎস্য খাতেও বিপ্লব ঘটবে। তিনি বলেন, “খালটি খনন হলে কৃষকরা যেমন সেচ সুবিধা পাবেন, তেমনি জেলেরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। সামগ্রিকভাবে উলাশীর অর্থনৈতিক চেহারা বদলে যাবে।”
স্থানীয়রা বলেন শহীদ জিয়ার হাতে গড়া এই খাল তারেক রহমানের হাত ধরে আবারও সচল হতে যাচ্ছে এটি আমাদের জন্য শুধু একটি রাজনৈতিক সফর নয়, বরং বাঁচার স্বপ্ন।তারেক রহমানের এই সফরের মধ্য দিয়ে উলাশী জিয়া খাল আবারও উত্তরসূরিদের হাত ধরে তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে, এমনটাই প্রত্যাশা শার্শাবাসীর।