মো. এমদাদুল হক দুলু, বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর বদলগাছীতে অভিযান চালিয়ে ৭২ কেজি গাঁজাসহ মোঃ মনির হোসেন (৪২) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৫ এর সদস্যরা। একটি প্রাইভেট কারে গাঁজাবহনের সময় বদলগাছী উপজেলার চারমাথা থেকে মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রæয়ারি) রাত ২টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় নগদ টাকাসহ বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়। আলমগীর (৪৪) ওই প্রাইভেট কারের চালক পালিয়ে গেছে। গ্রেপ্তার মনির হোসেন সিলেট জেলার জৈন্তাপুর থানার কুচরাই গ্রামের মো: মোসলেম এর ছেলে। পলাতক আলামগীরের বাড়ি লক্ষিপুর জেলার সদর থানার নন্দনপুর গ্রামে। বুধবার ২৮ ফেব্রæয়ারি বেলা ১১ টায় নওগাঁ সার্কিট হাউজে সংবাদ সম্মেলন করে র্যাব-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মোঃ শেখ সাদিক এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, র্যাব প্রাতিষ্ঠানিক সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে সকল অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৫ এর গোয়েন্দা দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রæয়ারি দুই জন মাদক ব্যবসায়ী কুমিল্লা হতে নওগাঁর বদলগাছী এলাকায় অভিনব কায়দায় প্রাইভেট কারে গাঁজা বহন করবে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৫, সিপিসি-৩ এর একটি চৌকশ আভিযানিক দল বদলগাছী উপজেলার চারমাথায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশী শুরু করে। একপর্যায়ে একটি প্রাইভেট কারে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে ৭২ কেজি গাঁজা পরিবহনকালে গভীর রাতে মনিরকে ওই প্রাইভেট কারসহ গ্রেপ্তার করা হয়। মনির একজন চিহ্নিত মাদক সম্রাট। অপরদিকে চালক আলমগীর কৌশলে পালিয়ে যায়। প্রাইভেট কার থেকে লুকানো অবস্থায় ৭২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ২টি মোবাইল, ০৩টি সীমকার্ড ও মাদক ক্রয়-বিক্রয় কাজে ব্যবহৃত ৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। মেজর শেক সাদিক আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত মনির ও পলাতক চালক আলমগীর চিহ্নিত পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক সরবরাহ করে আসছে বলে জানা যায়। মনির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, সে দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লার সীমান্তবর্তী অঞ্চল হতে গাঁজার চালান সংগ্রহ করে আইন-শৃংখলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাইভেট কারে বহন করে গাঁজা সরবরাহ করে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বদলগাছী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া মাদকসেবী ও মাদক কারবারী সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের ধরতে র্যাব-৫, সিপিসি-৩ জয়পুরহাট ক্যাম্পের গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও সংবাদ সন্মেলনে বলা হয়।