রুমায় ধর্ষণের অভিযোগে আটক ৩। বিচারের দাবিতে মানববন্ধন আজ

শৈহ্লাচিং মার্মা রুমা প্রতিনিধি ঃ স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে রুমা থানা পুলিশ। আটকৃতেরা হলো- ক্যসাইওয়াং মার্মা, ক্যহ্লাওয়াং মার্মা ও উহাইসিং মার্মা। তবে অভিযুক্ত বাকি দুইজন পলাতক।

তাদের নামে রুমা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে। তবে ধর্ষণের মতো এসব অপরাধ সামাজিকভাবে অমীমাংসাযোগ্য অপরাধ হলেও সালিশি বিচারে বাকিতে অর্থ জরিমানা করিয়ে অভিযুক্তদের দায় মুক্তি দেওয়া সেইসব সামাজিক নেতাদের বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে রুমা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহরাওয়ার্দী বলেছেন, সামাজিকভাবে সালিশি বিচার আয়োজন এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। সত্যতা পাওয়া গেলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

তবে ধর্ষণের মতো ঘটনা সামাজিকভাবে অমিস অমীমাংসাযোগ্য অপরাধে সালিশি বিচারের আওতায় এনে ধর্ষণকারীদের ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় রুমা উপজেলায় সুশীল সমাজ ও যুব সমাজ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

সালিশি বিচারে অন্যতম নেতা গংবাসে মার্মা সহ সামাজিক বিচার আয়োজনের সংসদ এর আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবিতে মানব বন্ধন আয়োজন করতে যাচ্ছে। রুমা যুবসমাজ ব্যানারে ২০ আগস্ট রোজ বৃহস্পতিবার সকালে রুমা বাজারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।
 পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ৫ম শ্রেণী পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ সংক্রান্ত বান্দরবানের রুমায় পাইন্দু ইউনিয়নের পাইন্দু হেডম্যান পাড়ায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১ টার দিকে এক সামাজিক নালিশি বিচার বসা হয়।
বিচারে উপস্থিত ছিলেন আলেচু পাড়া কারবারী মংনিঅং মার্মা। তিনি বলেছেন, ওই সামাজিক সালিশি বিচারে সুস্থ মতামত কাউকে সুযোগ নাদিয়ে একতরফা ভাবে হয়েছে।
 বিচারে অভিযুক্ত ধর্ষণকারীদের বাকিতে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করিয়ে দেওয়ার অজুহাত দিয়ে ধর্ষণকারীদের দায় মুক্তি দেয়া হয়।
  সামাজিক সালিশি বিচারে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন- পাইন্দু ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের তিন- তিনবার নির্বাচিত মেম্বার ও নিষিদ্ধ ঘোষিত  পাইন্দু ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গংবাসে মার্মা ও পাইন্দু মৌজার হেডম্যান মংচউ মার্মা গং। এতে সভাপতিত্ব করেন পাইন্দু পাড়া প্রধান কারবারী থোয়াইসা মারমা।
এ ঘটনা এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের ঝড় ওঠেছে।
এই ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশে আসলে পুলিশ ও নিরাপত্তবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। ১৯ আগস্ট রুমা থানায়  নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এতে আটকৃত তিনজন সহ ধর্ষণকারী হিসেবে পাঁচজনের নাম এজাহার ভূক্ত হয়।
রুমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেছেন, ধর্ষণের মামলায় এজাহার ভূক্ত বাকি দুইজনকেও আটকের জন্য অভিযান চলমান আছে।
এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মারমা যুব সমাজের নেতৃবৃন্দ এক বৈঠকে মিলিত হয়েছে। তারা বৃহস্পতিবার সকালে ধর্ষণকারীদের সুবিচারের মাধ্যমে কঠিন শাস্তি দাবী এবং সালিশি বিচার আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থার সুনিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন আয়োজন করবে। এ তথ্যে জানিয়েছেন মারমা যুব নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *