সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক (এসভিবি) বন্ধ-যুক্তরাষ্ট্র

কালের সংবাদ ডেস্কঃ সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক (এসভিবি) বন্ধ, ব্যাংকিং খাতে ২০০৮ সালের পর সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা দেখল যুক্তরাষ্ট্র। মূলধন সংকট ও আমানত নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক (এসভিবি) বন্ধ করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রকরা। বাজেয়াপ্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ। খবর বিবিসি।

এসভিবি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বেসরকারি ঋণদাতা ব্যাংক আর এই ব্যাংকের ধসে পড়াকে দেশটির ইতিহাসে আর্থিক খাতে দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।

এসভিবি মূলত প্রযুক্তি খাতে ঋণ দিয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক উচ্চ সুদের হার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করে ক্ষতি এড়ানোর সুযোগ ছিল না। বন্ধ হওয়ার সর্বশেষ ৪৮ ঘণ্টা ছিল নাটকীয়। এ সময়ে গ্রাহকদের মধ্যে টাকা তোলার হার বেড়ে যায়। পড়ে যায় শেয়ার দর।

গত শুক্রবার (১০ই মার্চ) ব্যাংক বন্ধ করা হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, তারা ‘বীমাকৃত আমানতকারীদের রক্ষা করার জন্য’ কাজ করছে। ফেডারেল ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন (এফডিআইসি), যারা সাধারণত আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত আমানত রক্ষা করে। তারা ব্যাংকে রাখা সাড়ে ১৭ হাজার কোটি ডলার আমানতের দায়িত্ব নিয়েছে।

ব্যাংকের সম্পদ বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ বীমাবিহীন আমানতকারীদের কাছে যাবে কর্মকর্তারা বলছেন।

ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ নিয়ে অনেক কোম্পানি তাদের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে এমন পরিস্থিতিতে। বিশেষ করে স্টার্ট-আপগুলোর মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এসভিবি বলছে, তাদের সম্পদ মূলত সরকারি বন্ড। উচ্চ সুদের হারের সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে তারা ঘাটতিতে পড়ে। সংকট উত্তরণে ২২৫ কোটি ডলার সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। তখন শেয়ার দর পড়ে যায় ৬০ শতাংশ। এতে আতঙ্কিত আমানতকারীরা গত বৃহস্পতিবার ৪ হাজার ২০০ কোটি ডলার তুলে নেয়।

এসভিবি অবস্হা দেখে অন্যান্য ব্যাংকগুলো একই রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে এমন উদ্বেগের কারণে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিশ্বব্যাপী ব্যাংকের শেয়ার ব্যাপক প্রভাবিত হয়।

এসভিবি নিয়ে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি জ্যানেট ইয়েলেন জানান, সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক ও অন্যদের সাম্প্রতিক অবস্থা সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য নিয়ন্ত্রকদের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে তাদের।

এসভিবি ১৯৮৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ব্যাংক হিসেবে যাত্রা করে। গত দশকে এর দ্রুত প্রসার ঘটে। বেশির ভাগ কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত হলেও বিশ্বব্যাপী ব্যাংকটির কর্মী সংখ্যা সাড়ে আট হাজার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *