শার্শা উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫ জনের মনোনায়ন জমা; বিতর্কিত ব্যাক্তিকে এমপির সমর্থনে ক্ষুব্ধ নেতা কমীরা

মোঃ আনিছুর রহমান, বেনাপোল প্রতিনিধিঃ নানা জল্পনা কল্পনা আলোচনা সমালোচনার মধ্যে দিয়ে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে শার্শা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৫  জন ভাইচ চেয়ারম্যান পদে ৫ জন ও নারী ভাইচ চেয়ারম্যান পদে তিন জন মনোনায়নপত্র জমা দিয়েছেন। রোববার শার্শা উপজেলা নির্বাচন কমিশনের কাছে তাদের মনোনায়নপত্র জমা দিয়েছেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান পদে শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান  সিরাজুল হক মনজু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মিন্নু, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি অহিদুজ্জামান অহিদ, নাভারন ডিগ্রি কলেজের অধ্যাক্ষ ও উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক  ইব্রাহীম খলিল, সাবেক শার্শা ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন।

ভাইচ চেয়ারম্যান পদে শাহরিন আলম বাদল, জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুর রহিম, তরিকুল ইসলাম মিলন,ও শহিদুল ইসলাম মন্টু।  এবং নারী ভাইচ চেয়ারম্যান পদে আলেয়া ফেরদৌস, নাজমুন্নাহার ও শামিমা খাতুন।

এদিকে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের মধ্যে চরম হতাশা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাতাসে গুঞ্জন ছড়িয়েছে শার্শা -১ আসনের জাতিয় সংসদ কর্তৃক একজন চিহিৃত দুবৃত্ত এবং চোরচালান ও অস্ত্র ব্যবসার মহানায়ককে সমর্থন জানানোর জন্য এরকম অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শার্শার আওয়ামীলীগ নেতা কমীরা ক্ষুব্ধ হয়েছে। নেতা কর্মীরা ইতিমধ্যে তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা উপজেলা নির্বাচনে দলীয় এমপি মন্ত্রীদের সমর্থন জানাতে নিশেধ করেছেন, সেখানে শার্শা আসনের এমপি কি ভাবে একজন চিহিৃত একাধিক মামলার আসামিকে সমর্থন জানায়।

শার্শা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অহিদুজ্জামান বলেন, সোহরাবকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে মনোনায়ন দলীয় কোন সিদ্ধান্ত নয়। এটি ব্যক্তি এমপির নিজের পছন্দ। উপজেলা আওয়ামলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল বলেন, টাকা পয়সার বিনিময়ে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাকে ( সোহরাব) প্রাথী  করা দলীয় কোন সিদ্ধান্ত নয়। এটি এমপির পছন্দের মনগড়া সিদ্ধান্ত। এমপি সাহেব তার নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তাকে সমর্থন দিয়েছেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু বলেন সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে মতিয়া চৌধুরীর গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ষ্টেজ ভাঙ্গা মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার মামলা, র‌্যাবের হাতে অস্ত্র গুলি সহ আটক, চোরাচালন সহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। এখন শেখ আফিল উদ্দিন এখানকার এমপি। কর্তার ইচ্ছায় কর্ম। তিনি যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তাই তো হচ্ছে।

এদিকে  শার্শা উপজেলার বৃহৎ একটি অংশ ত্যাগি নেতাদের চেয়ারম্যান হিসাবে দেখতে চায়। উপজেলার অধিকাংশ ভোটার তাদের মতামতে জানিয়েছে সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নুরুজ্জামান এর সহদর যুবলীগের মাঠ কাপানো নেতা অহিদুজ্জামান অহিদ উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে জনগনের পাশে থাকুক। দীর্ঘ দিন জামাত বিএনপির বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানো এবং মাঠে ময়দানে আন্দোলন সংগ্রামে এই নেতাকে দেখা গেছে। সুতারং কোন বিকর্তীত নেতাকে আমরা উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে দেখতে চাই না। আমরা যুবলীগের নেতা অহিদকে শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে দেখতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *