ডেক্স খবর ঃ শীর্ষে থাকা অনেক দেশেই দেখা যায় নাগরিকত্ব পেতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়। তবে কোনো কোনো দেশে খুব সহজ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।
বিনিয়োগ, পিতা-মাতার নাগরিকত্ব, বিয়ে বা একটি নির্দিষ্ট সময় আইন মেনে বৈধভাবে বসবাস করে একজন বিদেশি নাগরিক দ্বৈত নাগরিকত্ব পেতে পারেন।
কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে পারলেই মিলবে নতুন পাসপোর্ট। চলুন জানা যাক এমন কয়েকটি দেশ সম্পর্কে, যেসব দেশে নাগরিকত্ব পাওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ।
আয়ারল্যান্ডঃ
ইউরোপের নন-সেনজেনভুক্ত দেশ আয়ারল্যান্ডে বংশানুক্রমের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ যদি কারও বাবা-মা বা দাদা-দাদি আয়ারল্যান্ডে জন্ম গ্রহণ করেন, তাহলে বংশধর হিসেবে সেই ব্যক্তি নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য হতে পারেন।
আবেদনকারীকে বিদেশি জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে। আইরিশ নাগরিকত্ব ইইউ পাসপোর্ট এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ প্রদান করে। আয়ারল্যান্ডের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে দ্বৈত জাতীয়তা বজায় রাখা যায়।
ডোমিনিকাঃ
ক্যারিবিয়ান দ্বীপদেশ ডোমিনিকায় বিনিয়োগের মাধ্যমে খুব সহজেই নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। মূলত দুইভাবে বিনিয়োগ করা যাবে। ইকোনমিক ডাইভারসিফিকেশন ফান্ড বা অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য তহবিলে ন্যূনতম বিনিয়োগ আর রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ।
দুই ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করে বিদেশি নাগরিকেরা কয়েক মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব পেতে পারেন। ডোমিনিকায় নাগরিকত্ব পেলে ইউরোপের সেনজেন অঞ্চলের দেশগুলোসহ ১৪০টির বেশি দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণের অনুমতি মিলবে। এ প্রকল্পের আওতায় দ্বৈত নাগরিকত্ব রাখা যায় এবং সেখানে বসবাসেরও প্রয়োজন হয় না।
তুরস্কঃ
সরাসরি বিনিয়োগের মাধ্যমে তুরস্কের নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। কমপক্ষে চার লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের রিয়েল এস্টেট কিনলে কয়েক মাসের মধ্যে দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব। তুরস্কে বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য নিজ দেশের নাগরিকত্ব বা আসল জাতীয়তা ত্যাগ করার প্রয়োজন হয় না।
সহজে নাগরিকত্ব পেতে হলে দেশভেদে বিভিন্ন উপায় আছে, যেমন বংশগত সূত্রে (আয়ারল্যান্ড, ইতালি), বিনিয়োগের মাধ্যমে (তুরস্ক, ভানুয়াতু, ডোমিনিকা), বিয়ে করে (নির্দিষ্ট শর্তে), অথবা নির্দিষ্ট সময় বসবাসের পর (পর্তুগাল, কানাডা); এছাড়া, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (যেমন আর্জেন্টিনা), বা নির্দিষ্ট ধর্মীয় নিয়মে (যেমন ইসরায়েল) নাগরিকত্ব পাওয়া যায়, তবে এর জন্য ভাষা ও সংস্কৃতিতে দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদী বৈধ বসবাসের প্রয়োজন হয়।
বংশগত সূত্রে নাগরিকত্ব আয়ারল্যান্ড ও ইতালি: পূর্বপুরুষ, বিশেষত দাদা-দাদি আইরিশ বা ইতালীয় হলে নাগরিকত্ব পাওয়ার সহজ পথ আছে।
ইসরায়েল: ইহুদি ধর্মাবলম্বীরা ‘ Law of Return’ অনুযায়ী সহজেই নাগরিকত্ব পেতে পারেন।
বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব (Citizenship by Investment – CBI) তুরস্ক, ভানুয়াতু, ডোমিনিকা, গ্রেনাডা: নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে দ্রুত নাগরিকত্ব পাওয়া যায়, যা কয়েক মাস থেকে এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে।
পর্তুগাল, স্পেন (গোল্ডেন ভিসা): এই দেশগুলোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া ও পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ আছে।
বসবাসের মাধ্যমে নাগরিকত্ব (Naturalization)
কানাডা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড: নির্দিষ্ট সংখ্যক বছর (সাধারণত ৫-৭ বছর) বৈধভাবে বসবাস, কাজ করা, ভাষা ও সংস্কৃতির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে নাগরিকত্ব মেলে।
পর্তুগাল, গ্রীস, মাল্টা: তুলনামূলক কম শর্তে দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের সুযোগ দিয়ে থাকে।
অন্যান্য উপায় বিয়ে: কোনো দেশের নাগরিককে বিয়ে করলে, নির্দিষ্ট সময় (যেমন ভারতে ৫ বছর) বৈধভাবে বসবাসের পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়।
জন্মসূত্রে: যে সব দেশে ‘jus soli’ নীতি অনুসরণ করা হয় (যেমন আর্জেন্টিনা), সেখানে জন্ম নিলেই নাগরিকত্ব পাওয়া যায়, তবে কিছু ব্যতিক্রমও আছে।