মো: আনিছুর রহমান, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে প্রতারণা। দুর দুরান্ত থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যেমে তাদের পাসপোর্ট এর আনুষ্টানিকতার কাজ করিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা করে যাত্রীদের সর্বশান্ত করলেও পুলিশ নিশ্চুপ। বার বার বেনাপোল পোর্ট থানায় অভিযোগ করলেও কোন ফলাফল আসছে না। আর এসব চক্রের কারনে এখানকার ব্যবসায়িরাও ব্যবসা বানিজ্য করতে পারছে না বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
বেনাপোল চেকপোষ্ট এলাকায় কিছু উঠতি বয়সের যুবক সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যান্ত এ প্রতারণার কাজে নিয়োজিত থাকে। এরা পুলিশের সামনে দিয়ে পাসপোর্ট যাত্রীদের টানা টানি করলেও পুলিশ কোন এক অদৃশ্য কারনে এদের কিছু বলে না।
সম্প্রতি দুর দুরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের নিকট থেকে প্রতারণার মাধ্যেমে নেওয়া টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ টাকা উদ্ধার করলেও তাদের আটক এর কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। তবে মাঝে মধ্যে দুই একজনকে আটক করে চালান দিলেও তারা আইনের ফাকফোকর দিয়ে বেরিয়ে আসে।
সারাদিন এসব প্রতারক চক্র বেনাপোল চেকপোষ্ট আন্তর্জাতিক প্যাচেঞ্জার টার্মিনাল, চেকপোষ্ট বাস টার্মিনাল ও চৌধুরী মার্কেটের সামনে এবং গলির মধ্যে ঘোরাঘুরি করে। প্রধান সড়কের উপর থেকে যাত্রীদের নির্দিষ্ট জায়গায় তাদের পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতার কথা বলে হাতিয়ে নেয় অর্থ। এসব প্রতারক চক্র যাত্রীদের বলে নতুন নিয়ম হয়েছে টাকার নাম্বার দিতে হয় ইমিগ্রেশনে। নতুন ফরম বের হয়েছে তাতে লিখতে হবে। এই বলে যাত্রীদের টাকা নিজ কব্জায় নিয়ে গুনতে গুনতে সু Ñকৌশলে পায়ের নিচে ফেলে দিয়ে প্রতারণা করে।
বেনাপোল চেকপোষ্টের চৌধুরী মার্কেটের সামনে এসব দালাল চক্র দাড়িয়ে থেকে যাত্রীরা ইমিগ্রেশনে প্রবেশ করার সময় তাদের কখনো এ্যাপায়নমেন্ট কখনো এনওসি কখনো এরাইভেল কার্ড আছে কিনা এসব বলে তাদের সাথে প্রতারণা করে। আর এর সাথে জড়িত কয়েকটি ঘরের ব্যবাসায়িরা। পুলিশ যদি এসব ঘরে অভিযান চালায় তাহলে প্রতারক চক্র ধরতে পারবে। এসব প্রতারক চক্রের কোন ঘর না থাকায় তারা কিছু অসাধু ঘরের মালিকদের সাথে যোগসাজসে এসব প্রতারনা করে থাকে।
ব্যবাসায়ি রহমান বলেন, পুলিশ যদি প্রতিটি ঘরে খোজ নেয় কর্মচারীর তালিকা তাহলেও ওই সব প্রতারক চক্র পুলিশের ভয়ে সরে যেতে পারে। পুলিশ খোজ খবর না নেওয়ার কারনে এরা কয়েকটি ঘরে বসে থাকে আর দুর দুরান্ত থেকে বাস, ট্রেনে যাত্রী আসলে তাদের কৌশলে ধরে এনে প্রতারণা করে।
এ বিষয় বেনাপোল পোর্ট থানা ওসি আশরাফ সাহেবকে অবগতি করা হলেও তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি। গত ৩০ তারিখে তিনি বলেছে যারা অনিয়ম করে সেই সব চক্রকে আটক এবং চিহিৃত ঘরগুলোয় তালা মেরে দেওয়া হবে।