বেনাপোল সীমান্ত এলাকার ধান্যখোলা সীমান্তে লাশ দেখার সুযোগ করে দিল সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ ও বিজিবি

মো: আনিছুর রহমান, বেনাপোল প্রতিনিধি: সীমান্তের শূন্যরেখায় শেষবারের মতো আত্মীয়দের লাশ দেখার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশি স্বজনরা। বুধবার (১ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে বেনাপোল সীমান্তের ধান্যখোলা সীমান্ত এলাকায় শেষ সুযোগ মেলে প্রিয়জনের লাশ দেখার বিজিবি ও বিএসএফ এর পতাকা বৈঠকের মাধ্যেমে।

যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) ও ভারতের ৬৭ বিএসএফের উদ্যোগে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এ সুযোগ দেওয়া হয় ধান্যখোলা সীমান্তের মেইন পিলার ২৫/৬ এস সংলগ্ন ধান্যখোলা সীমান্তে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায় , ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানার বাঁশঘাটা গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক অঞ্চল প্রধান জব্বার মন্ডল (৭৫) বার্ধক্যজনিত কারণে মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মারা যান। মৃত্যুর পর বাংলাদেশে থাকা তার আত্মীয়রা শেষবারের মতো লাশ দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করলে বিএসএফ এ বিষয়ে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করে।

পরে উভয় পরে সমন্বয়ে পতাকা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠক শেষে সীমান্তের শূন্যরেখায় লাশ স্বজনদের দেখানো হয়। এসময় উপস্থিত আত্মীয়রা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে মরদেহ ভারতে দাফনের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আত্মীয়রা বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

পতাকা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির পে যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়ন এর ধান্যখোলা কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. সেলিম মিয়া নেতেৃত্বে ৫ সদস্যর প্রতিনিধি দল। অপরদিকে ভারতের পক্ষে মোস্তফাপুর ৬৭ ব্যাটালিয়ন  বিএসএফর ৫ সদস্যর প্রতিনিধি দলের নেতেৃত্ব দেন এসি সঞ্জয় কুমার রায়।
বিজিবি সূত্র জানায়, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সীমান্তে দায়িত্ব পালন শুধু নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, মানবিক প্রয়োজনে উভয় প সবসময় সমন্বিতভাবে কাজ করে।

স্থানীয়রা বিজিবি ও বিএসএফের এই পদপেকে প্রশংসনীয় ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *