মোহাম্মদ আককাস আলী প্রতিনিধি মহাদেবপুর নওগাঁ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো.সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, প্রত্যেকটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আমরা ৫০ এবং জেলা সদর হাসপাতালের জন্য ১০ শয্যা করে ডায়ালাইসিস প্রতিস্থাপন করা হবে। যাতে করে টারশিয়ারি লেভেলে রোগীদের ঢাকায় যেতে না হয়। ডিস্ট্রিক্ট লেভেলে ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন থাকবে। আমরা আশা করি ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন ডেইলি যদি ৩ রাউন্ডও করে, ১৮০টা রোগীকে ডায়ালাইসিস করতে পারবে। এটি স্থাপন করতে আমাদের আর ৩ মাসও সময় লাগবে না ইনশাল্লাহ, আমাদের মেশিন টেন্ডার হয়ে গেছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১২ টার দিকে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল ১০টার দিকে মন্ত্রী হাসপাতালটিতে আকস্মিক পরিদর্শনে আসেন এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলা লেভেলে ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড স্থাপন করবো। বিল্ডিংয়ের কাজ অলরেডি ডিপিপি হয়ে গেছে, টেন্ডারে চলে যাবে, বিল্ডিং হবে। শুধু ডায়ালাইসিস না, দোয়া করবেন আমাদের জন্য, আমরা ৫০ থেকে প্রথম ১০১ শয্যা ঘোষণা করেছি। গত সপ্তাহে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের সামনে আরও ভিশনকে বৃদ্ধি করতে হবে, ৫০ বছরের চিন্তা করে করব। ১০১ থেকে ১৫১ শয্যা বিশিষ্ট করে করতেছি আমরা এখন। নতুনভাবে আবার ডিপিপি করে এটা একেবারেই টেন্ডার হয়ে যাবে। ১৫১ শয্যার ভেতরে ২৫টা সিট থাকবে মহিলাদের জন্য, মায়ের সেবার জন্য, যাতে আমাদের মেয়েদের কষ্ট না হয়। ২০টা সিট আমাদের শিশুদের জন্য আলাদা থাকবে। ফিজিওথেরাপির জন্য একটা মহিলা ওয়ার্ড থাকবে, একটা পুরুষ ওয়ার্ড থাকবে। দুইজন ডাক্তার থাকবে, মহিলাদের মহিলারা ফিজিওথেরাপি দেবে, পুরুষদের পুরুষরা ফিজিওথেরাপি দেবে।
মন্ত্রী বলেন, অত্যাধুনিক প্যাথলজি ল্যাব তৈরি করা হবে, অত্যাধুনিক প্যাথলজি সেবা দেওয়া হবে। আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন থেকে সকল মেশিন দিয়ে এগুলিকরা হবে, ৯ তলা বিল্ডিং হবে যেটা খালি জায়গায় হবে। আর যেটা আগে থেকে আছে যদি ফাউন্ডেশন থাকে ভার্টিক্যালি উপরে উঠবে। এভাবে আমরা স্বাস্থ্যসেবাটাকে উপজেলা লেভেলে নিয়ে যাচ্ছি।
সারাদেশের হাসপাতালগুলোর জনবল সংকট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে কোনো নতুন ডাক্তার নিয়োগ হয়নি, যেই পরিমাণ আমাদের দরকার। ২০ কোটি মানুষ! ডাক্তার আছে আমাদের কয়জন? কয়জন ডাক্তার নেওয়া হয়েছে? এখন আমরা ৫ হাজার ডাক্তার নিতে যাচ্ছি, সকল ফরমালিটিজ শেষ হয়ে গেছে। আড়াইহাজার নার্স এবং আড়াইহাজার ফার্মাসিস্ট নিতে যাচ্ছি। পিএসসিতে আরও ডাক্তারদের ইন্টারভিউ চলছে। আমরা আশা করি আগামী এক বছরের ভেতরে উই উইল হ্যাভ আ ভেরি গুড বাঞ্চ অফ ডক্টরস। আমরা অনেক ডাক্তার পেয়ে যাব ইনশাল্লাহ। তখন ডাক্তারের অসুবিধাটা থাকবে না।
মন্ত্রী আরও বলেন,দেশে ব্যাঙের ছাতার মতন প্রাইভেট ক্লিনিক-হাসপাতাল উঠেছে। গত ১৭ বছর এদের কোনো অ্যাকাউন্টেবিলিটি সৃষ্টি করা হয়নি, তারা কারও কাছে জবাবদিহি না। আমি যতখানি যাচ্ছি, দুই-একটা করে দেখতেছি, বন্ধ করতেছি, লাইসেন্স না থাকলে বন্ধ করতেছি। আমাদের ডিসি সাহেবরা সিভিল সার্জনদের নিয়ে মোবাইল কোর্ট করতেছে, জরিমানা করতেছে, চেষ্টা করতেছে। এখন অবশ্য তারা অনেকে হুঁশিয়ার। আমাদের তো মাত্র ৬টা মাস হলো, আরেকটু সময় দেন। কারণ ১৮-২০টা বছর তো এ দেশে কোনো অ্যাকাউন্টেবিলিটি ছিল না। আপনারাও কথা বলতে পারতেন না। আজকে যেভাবে আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন, আগে কিন্তু পারতেন না। আগে এমপি সাহেবরা আইসা এইভাবে বইসা দেখত না, মন্ত্রী সাহেবরা আসত না। এমন একটা সিচুয়েশন গেছে যেখানে কারও কাছে জবাবদিহিতা ছিল না। আমরা শুরু করেছি, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও অত্যন্ত সিরিয়াস। দোয়া করবেন, আশা করি আমরা এই স্বাস্থ্য খাতকে অনেক উন্নত করব।
এ সময় সাংসদ জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.আ: ম: আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলামসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।