শামীম আখতার (নিজস্ব প্রতিবেদক) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ বলেছেন, গণতান্ত্রিকভাবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অবাধ এবং বিশ্বাসযোগ্য একটা নির্বাচন ছাড়া জাতির সামনে বিকল্প নেই। অনেকেই অনেক কথা বলছে নির্বাচন হবে না, দেরিতে হবে। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে কোন সংশয় নেই। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা হয়েছে। তাই ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচনকে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। গতকাল শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে বড়েঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নারী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ ১৭টি বছর সংগ্রাম করেছে, রক্ত দিয়েছে অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য। তার মধ্যে এক নম্বর অধিকার ছিল ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া। এখন সেই পরিবেশ নিশ্চিত হয়েছে। স্বৈরাচারীর পতনের মধ্যে দিয়ে এদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। যদি সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা না যায়, তাহলে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে না। আর সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়াটা দরকার। ফ্যাসিবাদীরা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইছে। দেশের ভেতরে এবং দেশের বাইরে ফ্যাসিবাদের দোসররা যেভাবে কথা বলছে, যেভাবে চলাফেরা করছে, সেটা আমাদের মতো গণতন্ত্রকামীদের জন্য সতর্ক সংকেত। স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের ১৫টি বছরের ইতিহাস গুম, খুন ও লুণ্ঠনের ইতিহাস। সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। জাতির ক্রান্তিকালে বরাবরই তরুণ সমাজ, যুব সমাজ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। জুলাই আন্দোলনেও তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বেই জাতি ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিএনপির নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্ম ও নারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে আমাদের প্রধান কাজ হবে ৩১ দফা বাস্তবায়ন। সেজন্য যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলকে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর দিয়ে অনেক ঝড় বয়ে গেছে। বিএনপির টিকে থাকার সংগ্রাম মোটেও সহজ ছিলোনা। কিন্তু বৈরী সময়ে বিএনপি শুধু টিকেই থাকেনি, তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় আন্দোলন-সংগ্রামের যত পথ ছিল, সব পথেই সক্রিয় ছিল বিএনপি। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পাটাতন বিএনপিই তৈরি করেছিলো।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী নির্বাচন সবচেয়ে কঠিন হবে। নির্বাচনকে ঘিরে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তবে জনগণের আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা অর্জন করা গেলে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা সম্ভব। আস্থা অর্জনে বিএনপির সকল নেতাকর্মীদের জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে। স্বৈরাচারের পতন হয়েছে সত্য, তবে তারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে গেছে। রাষ্ট্র সংস্কার ও পুনর্গঠনে হিমশিম খাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায়, পুনরায় সরকার গঠন করতে পারলে বিএনপি এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সক্ষম হবে।
নারী সমাবেশ অনুষ্ঠানে মঙ্গলকোট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোস্তাক আহমেদ এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সিনিয়র সহ-সভাপতি রেহেনা আজাদ, সহ-সভাপতি ও সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলাউদ্দিন আলা, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবির বিশ্বাস।
অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন মঙ্গলকোট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী ঢালী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুর রহমান, যশোর জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি নুরুন্নাহার নুরি, যুগ্ম-সম্পাদক নাজমা সুলতানা প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, ত্রাণ ও পূর্নবাসন বিষয়ক সম্পাদক আবু নাঈম, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বাবুল রানা, উপজেলা যুবদল নেতা মেহেদী হাসান হিমেল, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব মেহেদী হাসান বিশ্বাস, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আজিজুর রহমান আজিজ, পৌর মহিলা নেত্রী রেক্সনা খাতুন-সহ মঙ্গলকোট ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কয়েক শতাধিক নারীরা উপস্থিত ছিলেন।