মোঃ মোকাররম হোসাইন, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি: জয়পুরহাট কালাই উপজেলায় আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের চলছে উৎসবের ধুম। বাম্পার ফলন পেয়ে খুশি কৃষকরা । মৃদু মৃদু শীতল বাতাসে পাকা সোনালী আমন ধান দোল খাচ্ছে মাঠে মাঠে। পাকা ধানের গন্ধে কৃষকদের মনে এখন বইছে প্রফুল্লতা।
এ উপজেলার মাঠ ঘাট জুড়ে সোনালী বর্ণ ধারণ করা আমন ধানের নয়নাভিরাম দৃশ্য এখন চোখে পড়ার মতো ।পাকা ধান কাটতে হাতে কাঁচি নিয়ে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।
মাঠ থেকে নতুন ধান বাড়ীতে তোলার জন্য খুশীতে আজ্ঞিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন কৃষাণীরা। এরই মধ্যে অনেকেই কাটা ও মাড়াইয়ের ধান বাজারে বিক্রিও শুরু করছেন। এ বছর কৃষকেরা প্রথম দিকে ধানের ভালো দাম পাওয়ায় অনেক খুশি হলেও ধীরে ধীরে ধানের বাজার কমতে থাকায় উদ্বিগ্ন কৃষক।
কৃষকেরা বলছেন, উৎপাদিত প্রতিটি ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেলে কৃষকেরা কৃষি চাষাবাদের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে । এতে করে ফলে দেশ খাদ্য সঙ্কটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদ্প্তর সূত্রে জানা গিয়েছে যে, এবার আমন মৌসুমে ৫৩০০ জনকে কৃষকে প্রনোদনা হিসাবে সার ও বীজ,কীটনাশক ঔষুধ দেওয়া হয়েছে । চলতি মৌসুমে ১১ হাজার ৯১৫হেক্টর জমিতে আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবহাওয়া ভাল থাকায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এ লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ।
উদয়পুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, ৬বিঘা জমিতে মামুন ধান রোপন করেছি। রোগ বালাই তেমন না থাকায় ধান অনেক ভাল ফলন হয়েছে। তবে ধানের বাজার দিন দিন যেভাবে কমতে শুরু করেছে তাতে চিন্তা বাড়ছে।
ঝামুটপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘তিন একর জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। আশানুরূপ ফলনের চেয়ে এ বছর অনেক ভাল ফলন হয়েছে। এ ফলনে আমি অনেক খুশি।’
আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের হাতিয়র কাজীপাড়া গ্রামের কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমন ধান কর্তন করে জমিতে আলু লাগানোর জন্য গোবর নিয়ে যাচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ ফলন খুব ভাল হয়েছে। নতুন ধান পেয়ে আমি আনন্দিত।’ তবে ধানের বাজার ঠিক রাখতে সরকারের যথাযথ নজর আশা করেন তিনি।
আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাবকী গ্রামের মতিয়র রহমান বলেন, এ বছর আশানুরূপ ফলনের আশা করছি। যদি কৃষক তার প্রতিটি ফসলের সঠিক মূল্য না পান তাহলে ফসলের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। সরকার অনেক কৃষি পণ্যের দাম নির্ধারন করলেও কৃষক তার যথাযথ মূল্য পান না বলে অভিযোগ করেন তিনি। এজন্য ধানসহ সরকারকে প্রতিটি ফসলের কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
উপজেলার হাতিয়র বাজারের ধান ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম ও এনামুল সরদার বলেন , ধানের বাজার প্রথমে দিকে ভালো ছিল , তখন মিলারদের চাহিদাও ছিল বেশি। ধানের দাম কমে যাওয়ায় বর্তমানে প্রতিমনে ৩০-৪০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অরুণ চন্দ্র রায় বলেন, এ উপজেলায় আমন ধান চাষ সফল করতে স্থানীয় বিএডিসি (বীজ) কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের বীজ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। প্রথম দিকে বৃষ্টিপাতের কিছুটা সমস্যা থাকলেও পরে আশানুরুপ বৃষ্টিপাতের ফলে রোপা আমনের চারা রোপণে আর কোন সমস্যা হয়নি বলে জানান।