জনপ্রবাদ প্রকাশে বানিয়াচংয়ে সাহিত্য-সংস্কৃতির উজ্জ্বল সমাবেশ

বানিয়াচং প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের বানিয়াচং মহারত্নপাড়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে অনিয়মিত সাহিত্য সাময়িকী ‘জনপ্রবাদ’ এর সপ্তম সংখ্যার প্রকাশনা অনুষ্ঠান গতকাল ২৭ আগস্ট ২০২৫, বুধবার, উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. মায়েল ঠাকুর এবং সঞ্চালনা করেন একাধিক গ্রন্থের লেখক কবি এম আর ঠাকুর। প্রকাশনা উৎসবকে ঘিরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, লেখক, সাহিত্যপ্রেমী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এক ব্যতিক্রমী সাহিত্যিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি তাহমিনা বেগম গিনি। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন—
“বর্তমানে ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যবহারের কারণে ছাত্রছাত্রীরা বিপথগামী হচ্ছে। এই ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে হলে ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ ও নিয়মিত লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগী হতে হবে। কেবল তখনই তারা সঠিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে গড়ে উঠতে পারবে।
প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও লোক সংস্কৃতি গবেষক আবু সালেহ আহমদ। তিনি গ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও গুণী মানুষের অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন—
“একটি এলাকার সংস্কৃতিই তার আত্মপরিচয়ের প্রতীক। তরুণ প্রজন্ম যদি তাদের শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত হয়, তবে তারা প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।”
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন—
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মুমিন, বানিয়াচং আইডিয়েল কলেজের প্রভাষক ও লেখক জসিম উদ্দিন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু অঞ্জন দেব, সহকারী প্রধান শিক্ষিকা সেফালী আক্তার, লেখক ও মাস্টার জাহেদ আহমদ, বানিয়াচং সাহিত্য সংসদের সহ সাধারণ সম্পাদক কবি এস এম তৌহিদ, মহিলা সম্পাদিকা পিউলি খানম প্রমুখ।
তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে শিক্ষার গুরুত্ব, সাহিত্যচর্চার প্রয়োজনীয়তা এবং তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার আহ্বান।
সমাপনী বক্তব্যে বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. মায়েল ঠাকুর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন—
“ভালো মানুষ হওয়া এবং ভালো ফলাফল অর্জন করলে তা শুধু পিতামাতার মুখ উজ্জ্বল করবে না, বরং বিদ্যালয় ও এলাকার জন্যও গর্বের বিষয় হয়ে উঠবে। তোমরাই আগামী দিনের কর্ণধার।
উল্লেখ্য, অনিয়মিত সাহিত্য সাময়িকী ‘জনপ্রবাদ’ দীর্ঘদিন ধরে সম্পাদনা ও প্রকাশনা করে আসছেন লেখক ও গবেষক আবু সালেহ আহমদ। সাময়িকীটি মূলত সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ধারণ করে নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রচনা এতে স্থান পেয়েছে।
বর্তমান সপ্তম সংখ্যায় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন কবি এম আর ঠাকুর। তাঁর সম্পাদনায় সাময়িকীটি সাহিত্যপ্রেমীদের মাঝে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানটি শেষ হয় সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা বিনিময় এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহব্যঞ্জক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *