বগুড়া জেলা প্রতিনিধি, সিফাত আল বখতিয়ার : বগুড়া শহরের সুত্রাপুর গোহাইল রোডের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে মেসার্স মিটন মেশিনারীজের স্বত্তাধিকারী মো. আব্দুর রহমান ২০১৭ সাল থেকে ব্যাংকের ঋণের টাকা অনিয়ম ও পরিশোধ করতে না পারায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন বিচার কার্য চলার পর আদালত উক্ত সম্পত্তির বিপক্ষে ব্যাংকের সমুদয় অর্থ পরিশোধের নিমিত্তে সম্পত্তি নিলামে বিক্রির ঘোষণা দেন।
শহরের ঠনঠনিয়া মৌজার জেএল-১১৮, ৭০,৭১ এমআরআর খতিয়ানভূক্ত, সিএস ১২,১২,১৪ ও ১৫ নং খতিয়ানে হাল ২৭ নং দাগে ৫.১৮ শতাংশ জমির উপর (দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড) বগুড়া শাখা থেকে দেনাদার ঋণ গ্রহণ করেন।
বগুড়া সদরের ডাকুরচক এলাকার মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে ইতালি প্রবাসী মো. বিলজার ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় নিলামে ক্রয় করেন। এরপর উক্ত সম্পত্তিটি গত বুধবার ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ক্রেতার নিকট হস্তান্তর করেন।
ক্রেতারা দাবি করেছেন ,অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে সুত্রাপুর গোহাইল রোডের জমি নিলামে ক্রয় ও আদালত কর্তৃক উক্ত সম্পত্তি হস্তান্তর সত্বেও দেনাদারদের হুমকীসহ রোষানলে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যরা বিশৃঙ্খলা এড়াতে বগুড়া সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
মোঃ আবুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের ব্যাংক ঋণ ছিল ৫৭ লক্ষ টাকা। পরে তা সুদ ও কোর্ট খরচ সহ ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা করে। পরে তা ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় ডাক নিলাম হয় এবং মো বিলজার ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকায় ক্রয় করেন। কিন্তু তারা দাবি করেছেন তাদের বাড়ির মূল্য ৬ কোটি টাকা। ৬ কোটি টাকার সম্পদ ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকায় কিভাবে হয়।
তারা আরো জানান, মহরম ,সোহেল, গোলাপ সহ আরো অনেকে মিলে বাড়ি থেকে বের করে রাস্তায় নেমে দেওয়া হয়েছে বাড়ি থেকে কাপড় প্রয়োজনীয় সামগ্রী বের করার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
সুষ্ঠু বিচারের আশায় গত ৪ দিন যাবত পরিবারের সদস্য ও শিশুরা না খেয়ে খোলা আকাশের নিচে রাস্তায় একই পরিবারের নয়জন এক কাপড়ে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে।
জানা গেছে, প্রতিবেশী কানতা ইসলামের সাথে এলাকার কিছু ব্যক্তিরা মিলে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন ও খাবার যোগান দিচ্ছেন।