মোহাম্মদ আককাস আলী প্রতিনিধি মহাদেবপুর : বরেন্দ্র অঞ্চলে মজুরী নিয়ে বৈষম্যের শিকার নারী শ্রমিকেরা। কৃষিভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার মূল চালিকা শক্তিই সাধারণ কৃষি শ্রমিকরা। ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষি ভূমিতে সব ধরনের শ্রমিকরাই বঞ্চনার শিকার হয়। দুর্বল এবং অসহায় অংশ হিসেবে নারীরা হয় একেবারে বৈষম্যের জাঁতাকলে পিষ্ট। অথচ অপরিহার্য এই শ্রম বিনিয়োগে নারী-পুরুষে কোন তারতম্য নেই। অর্থাৎ পুরুষেরা যে পরিমাণ এবং যে ধরনের শ্রম দেয় সেখানে নারীদের বেলায়ও একই রকমের। অর্থাৎ সময় এবং কাজের ধরনের বেলায় কোন ধরনের পার্থক্য নেই। কিন্তু মজুরির বেলায় নারী শ্রমিকরা নানাভাবে বঞ্চিত হয়। কৃষি উৎপাদনে ফসলের বীজ বপন করা, আগাছা পরিষ্কার করা, ধান বাছাই করা, কাটা সবশেষে গোলার মজুত করা পর্যন্ত সব ধরনের কাজ নারী শ্রমিকরা নির্দ্বিধায় করতে আপত্তি করে না। কিন্তু শ্রম মজুরির বেলায় পুরুষের সঙ্গে তাদের যে ফারাক সেটাই তাদের ক্ষুব্ধ করে, আহত করে।
গ্রামবাংলার কৃষি উৎপাদনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এটাই বাস্তবসম্মত চিত্র। এত গেল ভূমিনির্ভর কৃষি উৎপাদনের কথা। আধুনিকায়নের এই অগ্রযাত্রার যুগে অবকাঠামো উন্নয়নেও শ্রম বিনিয়োগ আবশ্যকীয় পূর্বশর্ত।
সমাজের অর্ধাংশ নারী জাতিও সঙ্গত কারণে এই প্রযুক্তিগত শ্রমের সঙ্গে ও নিবিড়ভাবে যুক্ত। রাস্তাঘাট নির্মাণ, কার্লভাট, সেতু, বহুতল ভবন এবং শিল্প কারখানা তৈরি থেকে আরম্ভ করে আরও অনেক উন্নয়নের সূচকে নারী শ্রমের অপরিহার্যতা অনস্বীকার্য। এসব ক্ষেত্রেও নারী শ্রমের অবমূল্যায়নের অভিযোগ তোলা হয় বরাবরই। মাটি ভরাট, ইট ও পাথরের কংক্রিট জোগান দেয়ার মতো ভারী কাজগুলো ও নারীরা স্বচ্ছন্দে, সাবলীলভাবে করে যাচ্ছে। তারা নারী হিসেবে এসব শক্ত কাজের অজুহাত তুলে শ্রমের ব্যাপারে সামান্যতম গরিমসীও করে না। তবুও মজুরির বেলায় যেভাবেই হোক তাদেরকে পিছনে ফেলে রাখা হয়। তথ্য মতে নারী শ্রমের মজুরি একটু আলাদা। যেমন ১০০, ১২০, ১৭০ থেকে ২০০-২৫০ পর্যন্ত। কিন্তু পুরুষদের শ্রম মজুরি সেখানে ৩০০-৪০০ পর্যন্ত। মজুরির ক্ষেত্রে এমন অনিয়ম কেন করা হয় তার সদুত্তর কোন কর্তৃপক্ষ দিতে পারে না। ধরেই নেয়া হয় নারী বলে এই অসাম্য-বিভেদ।
বঞ্চনার শিকার এই নারী শ্রমিকদেরই এগিয়ে আসতে হবে তাদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে। নিজের অধিকার, সম্মান, মর্যাদা নিজেকেই জোরালোভাবে আদায় করে নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে প্রতিও আবেদন থাকবে এই তারতম্যের বেড়াজাল থেকে নারী শ্রমিকদের বের করে আনার।