বেনাপোল বন্দরে নিñিদ্র নিরাপত্তা: অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

মো: আনিছুর রহমান, বেনাপোল প্রতিনিধি: দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে আমদানিকৃত পণ্য ও বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এখন চলছে কড়া নজরদারি। গত দুই বছর আগের চিত্র পাল্টে গিয়ে বর্তমানে প্রশাসন ও আনসার সদস্যদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বন্দরে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। তবে বন্দরের এই কড়াকড়িতে সুবিধা করতে না পেরে একটি অসাধু চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে বন্দর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বন্দরের প্রতিটি গেটে তল্লাশি এবং নথিপত্র যাচাইয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন আনসার সদস্যরা। আগের মতো বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বন্দরে নিয়মিত আসা ট্রাক চালক ফারুক ও জিহাদ জানান, বর্তমানে সিরিয়াল অনুযায়ী গাড়ি প্রবেশ এবং কাগজপত্রের কাজ নিয়ম মেনেই হচ্ছে। চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, “আগে কিছু অনিয়ম হলেও বর্তমানে কোনো টাকা লেনদেনের সুযোগ নেই। যারা এসব কথা ছড়াচ্ছে তারা মূলত মিথ্যা রটাচ্ছে।”

লেবার সর্দার ডালিম এবং স্থানীয় সিকিউরিটি আলীকদর জানান, দুই বছর আগে কিছু বিশৃঙ্খলা থাকলেও এখন পরিবেশ অনেক স্বচ্ছ। এখন আনসার বা সিকিউরিটি সদস্যরা অত্যন্ত সতর্ক। কারণ সামান্য অনিয়মের প্রমাণ পেলেই তাদের চাকরির ওপর বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রত্যেকেই এখন যার যার দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, বন্দরের ভেতরে আগে যারা চুরির সাথে জড়িত ছিল বা অবৈধভাবে যাতায়াত করত, কড়াকড়ির কারণে তারা এখন ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে না। বন্দরে প্রবেশ করতে না পেরে এবং অবৈধ সুযোগ-সুবিধা লাভে ব্যর্থ হয়ে এই ‘চোর’ বা অসাধু চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেট কেনাবেচা বা কাগজ দেখার নামে টাকা নেওয়ার মতো ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে আনসার সদস্যদের হেয় করার চেষ্টা করছে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, বন্দরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়াই যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বর্তমানের এই নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে বন্দর ব্যবহারকারী ও সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *