বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানিকৃত পণ্য খালাসে কাস্টমসের বিরুদ্ধে বহুমুখী হয়রানির অভিযোগ: মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন আমদানিকারকেরা

বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানিকৃত পণ্য খালাসকে কেন্দ্র করে কাস্টমস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও চরম হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বন্দর থেকে সরকার প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম ও হয়রানির বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, ক্রমাগত হয়রানি ও দুর্নীতির কারণে বাধ্য হয়ে অনেক আমদানিকারক বেনাপোল বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান ‘আমিন উদ্দিন ট্রেডার্স’-এর কর্মচারী তৌহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান তাঁদের ওপর যে পণ্য খালাসের দায়িত্ব দিয়েছে, তা ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে পৌঁছানোর পর কাস্টমসের জয়েন্ট কমিশনার সফিউদ্দিন দিনের পর দিন অহেতুক আটকে রেখে হয়রানি করছেন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে ৫৭৯ প্যাকেজের একটি পণ্যচালান বেনাপোল স্থলবন্দরের ৪১ নম্বর শেডে আনলোড করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমস কর্মকর্তারা এসে সব পণ্য খুলে কায়িক পরীক্ষা চালান। কিন্তু পরীক্ষায় কোনো অতিরিক্ত বা ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য পাওয়া যায়নি। সব ঠিক থাকা সত্ত্বেও আজ পণ্যচালানটি খালাস নেওয়ার সময় কাস্টমসের জয়েন্ট কমিশনার সফিউদ্দিন তাতে অন্যায্যভাবে বাধা প্রদান করেন।

আমিন উদ্দিন ট্রেডার্সের কর্মচারীরা আরও জানান, আজ ওই একই শেডে তাঁদের আরও একটি আমদানিকৃত পণ্যের চালান এসেছে। সেটিও শতভাগ কায়িক পরীক্ষার অজুহাতে আটকে রাখা হয়েছে। তাঁরা জানান, “আমাদের দাবি স্পষ্ট—পণ্য শতভাগ পরীক্ষা করা হোক, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু পরীক্ষার পর কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসঙ্গতি না পাওয়ার পরও কেন চালান ছাড় দেওয়া হচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই প্রতিষ্ঠানের অপর এক প্রতিনিধি জানান, কাস্টমস কর্মকর্তা সফিউদ্দিনের চাহিদা অনুযায়ী ঘুষের টাকা দিতে না পারায় তিনি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে নানা অজুহাতে পণ্য আটকে রেখে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের পণ্যে যদি কোনো অনিয়ম থাকে, তবে আইন ও বিধি মোতাবেক জরিমানা করা হোক বা পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হোক—আমরা তা মেনে নিতে বাধ্য। কিন্তু নিয়ম মেনে চলার পরও এভাবে আটকে রেখে হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

এ বিষয়ে বেনাপোল বন্দরের সাধারণ ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা অনতিবিলম্বে এসব অনিয়ম ও হয়রানি বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ ও তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *