শিবপুরে দশ কোটি টাকায় নির্মিত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রেটি চিকিৎসক-ওষুধ সংকটে অকার্যকর

মোহাম্মদ আককাস আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : নওগাঁর নিয়ামতপুরে প্রায় পাঁচ বছর আগে চালু হওয়া ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রেটির সেবা বন্ধ রয়েছে। এখানে নেই কোনো মেডিকেল অফিসার। তিন মাস ধরে নেই ওষুধ সরবরাহ। ফলে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ এলাকার মা ও শিশুরা। চিকিৎসকের অভাবে রোগীশূন্য অবস্থায় বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়ে রয়েছে ১০কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সেবা। অযত্নে পড়ে রয়েছে বেড ও অপারেশন থিয়েটর।স্থানীয়দের দাবী, দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ ও নিয়মিত ঔষধ সরবরাহের মাধ্যমে কেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা হোক।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের শিবপুর বাজারে প্রায় পাঁচ বছর আগে চালু হয় ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কেন্দ্রটিতে এখন পর্যন্ত কোনো মেডিকেল অফিসার যোগদান করেনি। চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে কার্যত রোগীশূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটিতে কোনো সেবা গ্রহীতা নেই। নেই কোন কর্মব্যস্ততা। ১০ শয্যার হাসপাতাল হলেও রোগী ভর্তি বা নিয়মিত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালু না থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেডগুলো অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে। ধুলো-বালির আস্তরণ জমেছে তাতে। অপারেশন থিয়েটারেরও একই রকম অবস্থা।ধুলো-ময়লার চাদরে ঢাঁকা সব। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোন অপারেশন হয়নি এখানে।
বর্তমানে কেন্দ্রটির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফার্মাসিস্ট সুজন কুমার সাহা। তিনি জানান, কয়েক মাস ধরে এ কেন্দ্রে কোনো ধরনের ওষুধ সরবরাহ নেই। পাশাপাশি এ প্রতিষ্ঠানটি চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মেডিকেল অফিসার এখানে যোগদান করেননি। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় সাধারণ মানুষও এই কেন্দ্রে আসেন না।
কেন্দ্রটিতে বর্তমানে একজন ফার্মাসিস্ট, একজন টেকনোলজিস্ট, একজন ওয়ার্ড বয় এবং একজন আয়া কর্মরত আছেন। চিকিৎসক ও রোগী না থাকায় কর্মরতদের রোগীশূন্য অবস্থায় অফিস সময় পার করতে হচ্ছে।
পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইকরাম রহমান জানান, কেন্দ্রটিতে ২ জন মেডিক্যাল কর্মকর্তা ও ৪ জন ভিজিটরের পদ থাকলেও পদগুলো শুন্য রয়েছে। এ কারনে গর্ভবতী মা ও শিশুদেও জন্য যে সেবা, সেটা ব্যহত হচ্ছে। তবে সাধারণ সর্দিজ্বরের চিকিসা চালু রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকার মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষে সরকারি অর্থ ব্যয়ে প্রতিষ্ঠানটি নির্মিত হয়। কিন্তু বর্তমানে গুরুত্বপূর্ন এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কাগজে-কলমে চালু থাকলেও চিকিৎসক ও ওষুধের অভাবে মানুষ এর সুফল পাচ্ছেন না। বিশেষ করে মা ও শিশুদের জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য তাদের দূরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত মেডিকেল অফিসার ও ভিজিটর নিয়োগের পাশাপাশি ১০ শয্যার এই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটিতে নিয়মিত ঔষধ সরবরাহ নিশ্চিত করে কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ সেবা কার্যক্রম চালু করা হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *