শামীম আখতার (নিজস্ব প্রতিবেদক): যশোরের কেশবপুরে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বিশ্ব শান্তি, ন্যায় ও মানব কল্যাণের পথ প্রদর্শক মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এঁর জন্মদিন (পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী) উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাহে ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপলক্ষে কেশবপুর উপজেলা প্রশাসন ও শিশু একাডেমির যৌথ আয়োজনে গত বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের হামদ্/না’ত প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোঃ মোক্তার আলী।
অনুষ্ঠানে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী মোঃ মেশকাতুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম শহীদ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবির বিশ্বাস, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াজেদ খান ডাবলু, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবি আমীর সাঈদুর রহমান সাঈদ, পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমীর প্রভাষক জাকির হোসেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি’র) কেশবপুর প্রধান সমন্বয়ক সম্রাট হোসেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হারুনর রশীদ।
বক্তারা বলেন, পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবীর দিনটি সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। আমাদের প্রিয় নবী ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৩ বছর বয়সে একই দিনেই তিনি ইন্তেকাল করেন। মহানবীর আগমনের আগে আরব জাহেলিয়াতের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, যেখানে মানুষ আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানা অনৈতিক কাজ ও বিশৃঙ্খলায় লিপ্ত ছিল। মহান আল্লাহ সেই অন্ধকার নিমজ্জিত করতে মহানবীকে পৃথিবীতে পাঠান। আরব সমাজের অন্যায়, অবিচার, অসত্য ও অন্ধকার দূর করে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মানুষকে আলোর পথ দেখান এবং সত্য সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। মহানবী শান্তির ধর্ম ইসলাম ও শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। তিনি ৪০ বছর বয়সে হেরা পর্বতের গুহায় নবুয়াত লাভ করেন।হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আমাদের জীবনের পথ প্রদর্শক। ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে তাঁর শিক্ষা সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়।
বক্তারা আরও বলেন, পৃথিবীতে যখন নারীদের কোন সম্মান ছিলো না, সমাজ ব্যবস্থা ছিলো অত্যন্ত খারাপ তখনই মহানবীর আবির্ভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন মানুষ খুঁজে পেয়েছিলো আলোর দিশা। তাঁর সত্যের জ্যোতিতে বিশ্ববাসী হয়েছিলো উদ্ভাসিত। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে আমরা যদি চলতে পারি তাহলে সমাজ ব্যবস্থা আরো সুন্দর হবে। শিশুদের পবিত্র কুরআন ও হাদিস সম্পর্কে এবং ধর্মীয় শিক্ষার ওপর আমাদের জোর দিতে হবে। তারা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এঁর আদর্শ মোতাবেক চলতে পারলে তাদের জীবন উন্নত হবে।
আলোচনা সভা শেষে হামদ্/না’ত প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিজয়ীদের মাঝে পুরুষ্কার বিতরণ করা হয়। পরে বিশ্ব শান্তি, ন্যায় ও মানব কল্যাণের পথ প্রদর্শক মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দোয়া মাহফিলটি পরিচালনা করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তেলওয়াত করেন উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার সুদীপ বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ফারুক হোসেন খান, ত্রাণ ও পূর্নবাসন বিষয়ক সম্পাদক আবু নাঈম, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আজিজুর রহমান আজিজ, সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন এর সভাপতি আলহাজ্ব রুহুল কুদ্দুস কেশবপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আব্দুল হাই সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা কেশবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক শামীম আখতার মুকুল, সহ-সভাপতি এনামুল হাসান নাঈম, প্রচার সম্পাদক হাফিজুর রহমান, সাংবাদিক শাহিনুর রহমান, আব্দুল করিম, মাসুম বিল্লাহ, রনি হোসেন, সাদিক হোসাইনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।