অপ্রতিমের নির্মম মৃত্যু: একটি আইফোন হাতে বেরিয়ে আর ঘরে ফেরা হলো না

হাকিকুল ইসলাম খোকন, মোঃনাসির, আমেরিকা :  মাত্র ১৩ বছরের শিশু অপ্রতিম। মায়ের একমাত্র সন্তান। প্রকৃতির ছবি তুলবে—এই ছোট্ট আনন্দ নিয়েই মায়ের আইফোন হাতে করে বাসা থেকে বের হয়েছিল সে। কিন্তু কে জানত, সেই বের হওয়াই হবে তার জীবনের শেষ যাত্রা!

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২১ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিমের নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যে বয়সে একটি শিশুর হাতে থাকার কথা ছিল বই, খাতা, খেলনা আর ভবিষ্যতের নানা স্বপ্ন—সেই বয়সেই তার জীবন থেমে গেল এক মর্মান্তিক পরিণতিতে।

অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার, স্বজন ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। একজন মায়ের একমাত্র সন্তানকে হারানোর এই বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ, আশা ও স্বপ্ন যেন মুহূর্তেই নিভে গেল।

অপ্রতিমের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন অভিনেত্রী পূজা চেরি। তিনি সত্য উদঘাটন, সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনায় দায়ীদের আইনের আওতায় আনার প্রত্যাশা জানিয়েছেন।

অপ্রতিম, তোমার এভাবে চলে যাওয়ার কথা ছিল না। তোমার তো আরও অনেক দিন বেঁচে থাকার কথা ছিল। মায়ের হাত ধরে বড় হওয়ার কথা ছিল, পড়াশোনা শেষ করে নিজের স্বপ্ন পূরণের কথা ছিল। প্রকৃতির ছবি তুলতে যে শিশুটি আনন্দ নিয়ে বের হয়েছিল, তার ক্যামেরার চোখ আজ চিরতরে বন্ধ।

তোমার চলে যাওয়া শুধু তোমার পরিবারকে নয়, অসংখ্য মানুষকে কাঁদিয়েছে। তোমার মায়ের শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।

এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রকৃত কারণ দ্রুত উদঘাটন করা জরুরি। কোনো গুজব বা অনুমানের ভিত্তিতে নয়—নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কী ঘটেছিল, তা জাতির সামনে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

একটি শিশুর জীবন অমূল্য। একটি পরিবারের একমাত্র সন্তানকে হারানোর কষ্ট শুধু সেই পরিবার নয়, পুরো সমাজের জন্যই গভীর বেদনার বিষয়।
এনজেবিডিনিউজ সম্পাদক ও সাংবাদিক মোঃনাসির লিখেছেন,
অপ্রতিমের পরিবারের প্রতি রইল গভীর সমবেদনা। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার শক্তি দিন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *