বেনাপোল চেকপোষ্ট এবং হাউসে আটককৃত কোটি কোটি টাকার পণ্য পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে

মো: আনিছুর রহমান বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালী অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার অভাবে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। আর সেই সাথে কোটি কোটি টাকার পণ্য পচে পোকায় কেটে নষ্ট হয়ে গেলেও সে দিকে নেই কোন খেয়াল।ভারত থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের নিকট থেকে রেখে দেওয়া পণ্য বছর এর পর বছর পড়ে থেকে পচে গলে দুর্গন্ধ হলেও নেই কোন নজরদারি। পণ্য রাখার জায়গার অভাবে কর্মকর্তাদের অফিস কক্ষে বারান্দায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেও দেশের ভাবমুত্র্ িনষ্ট করছে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। দেখলে মনে হয় এই প্রতিষ্ঠানটির কোন অভিভাবক নেই। যেমন খুশি তেমন ভাবে চলছে নেই কারো কোন দায়ভার।

বেনাপোল চেকপোষ্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ভারত থেকে আসা যাত্রীদের নিকট থেকে যে সব পণ্য রেখে দেয় তা চলে যায় বেনাপোল কাস্টমস হাউসে। এরপর সেখান থেকে এসব পণ্য পাসপোর্ট যাত্রীরা ট্যাক্স দিয়ে ছাড় করিয়ে নিত। গত বছর তিনেক আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ঘোষনা দেয় এসব পণ্য নিতে হলে ৩০০% জরিমানা দিতে হবে। আর এ জরিমানার কারনে পাসপোর্ট যাত্রীরা তাদের পণ্য খালাস করতে পারছে না। কারন ক্রয় মুল্যর চেয়েও তিনগুন তারপর উৎকোচ ফাইল খরচ দিয়ে উল্টো নিজের বাঁশ নিজেই নেওয়া। বর্তমানে কাস্টমস হাউসের গোডাউনে জায়গা সংকট এর কারনে বেনাপোল চেকপোষ্ট সুপার এর রুম, যাত্রীদের গেষ্ট রুম, বাথরুম এবং দ্বিতীয় তলায় বারান্দায় ভারতীয় এসব পণ্য রেখে দেওয়ায় দেখলে মনে হয় কোন দেশের স্মরনার্থী শিবির।

যাত্রীদের দাবি যদি এসব পণ্য না রেখে স্পট ট্যাক্স অথবা ৩০০% জরিমানা উঠায় দিলেও যাত্রীরা কাস্টমস হাউস থেকে শুল্ক পরিশোধ করে পণ্য নিতে পারত। বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালী এবং নিজেদের স্বার্থের জন্য ল্যাগেজ সুবিধার পণ্য ও আটক করে। আর যে সকল পণ্যর স্লিপ যাত্রীরা দীর্ঘক্ষন দাড়িয়ে থেকেও পায় না এবং যাত্রী চলে যায় সেসব পণ্য ওই অসাধু কর্মকর্তারা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে যায়। এরা আটককৃত ডিএম বিহীন পণ্য বিভিন্ন ভাবে পাচার করে বিক্রি অথবা বাড়ি নিয়ে যায় বলে ও গুঞ্জন রয়েছে।

সরেজমিনে বেনাপোল চেকপোষ্ট কাস্টমসে গিয়ে দেখা যায় সেখানে গত দুই তিন বছরের পণ্য এতটা জমা পড়েছে যে নতুন কোন পণ্য রাখার জায়গা নেই। পচে গলে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। অথচ রাষ্ট্রের প্রধান ফটক বেনাপোল চেকপোষ্ট। এ পথে দেশী বিদেশী যাত্রীরা যাতায়াত করে। ইমিগ্রেশন এর ডেস্কে পুলিশ কর্মকর্তারা দুর্গন্ধে নাকে রুমাল দিয়ে বসে আছে। অথচ এর কোন প্রতিকার নেই।

ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রী আব্দুস সালাম (পাসপোর্ট নং জেড এ ১৩০২১১) জানান, তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন মাত্র ১টি শাড়ী ৮টি আত্নীয় বাড়ির জন্য ফেস ওয়াস এবং ৬ কেজি বিভিন্ন ধরনের খাবার  নিয়ে। কাস্টমস নিয়ম অনুযায়ী একজন যাত্রী ৪০ কেজি পণ্য পায় । কিন্তু কোন কিছু না মেনে সিরাজ নামে একজন এ আরও তার পণ্য ডিএম করিয়ে দিয়েছে। সে আরো বলে আমাকে ডিএম স্লিপে স্বাক্ষর করতে বলে আমি না করায় সে বলে দুর হয়ে যা আমি স্বাক্ষর করে নিব।

শ্যামলী ( পাসপোর্ট নং জেড ৮০৬০০২২) নামে ভারতীয় এক প্রতিবন্ধী নারী বলেন আমি মাত্র ২টি শাড়ি নিয়ে বাংলাদেশে আসি। বেনাপোল কাস্টমস এর এ আরও সিরাজ  জোর করে আমার শাড়ি দুইটি রেখে দেয়। আমি ল্যাগেজ সুবিধা অনুযায়ী ওই শাড়ি পাই এবং আমি একজন প্রতবন্ধি মানুষ। লাঠি ভর করে হাটতে হয়। অনেক কাকুতি মিনতি করলেও সিরাজী আমার শাড়ি না দিয়ে আমাকে স্লিপ দিয়ে বের করে দেয়। এভাবে কাস্টমস জোর করে অনেকের পণ্য রেখে দেয়।

কাস্টমস দীর্ঘ দিন হয়ে গেলেও পণ্য কেন নিলাম করছে না এবং ল্যাগেজ সুবিধা পণ্য কেন রেখে দিচ্ছে এমন প্রশ্নে বেনাপোল চেকপোষ্ট কাস্টমস সুপার নাজমুল সিরাজী বলেন, একটি দুইটি শাড়ি রাখার কথা না তারপর কে রাখছে আমি দেখব। আর নিলাম এর বিষয়টি আমাদের হাতে নয় এটা উর্ধ্বোতন কর্মকর্তারা দেখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *