খন্দকার নজরুল ইসলাম মিলন মাগুরা প্রতিনিধি: জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী অনিল হাজারিকার জনপ্রিয় গান ঠোংগা আনে দে বউ, দড়া আনে দে, ঠিলে ধুয়ে দে বউ গাছ কাটতি যাব, আঞ্চলিক এই গানেই গাছির ব্যস্ত সময় পার করছেন মাগুরার বিভিন্ন এলাকার খেজুর গাছের গাছিরা। দেখে মনে হচ্ছে দম ফেলার সময় খাওয়ারও সময় নেই তাদের। শীতের আগমনী বার্তার সাথে বেড়েছে অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা মাগুরার অত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের খেজুর গাছের কদর। মাজায় গোছা (মোটা দড়ি) পেঁচিয়ে হাতে বড় দা, শোন ও পায়ের নিচে শক্ত দড়ি দিয়ে লাঠি বেঁধে দিনভর খেজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। গাছের আগায় উঠে খুব যত্নের সাথে গাছগুলো পরিস্কার করে কয়েকদিন পরে আবার চোখ কেটে রস বের হওয়ার পরিচর্যা করে, এবং ছিদ্র করে বাঁশের নল বসিয়ে রেখে দিচ্ছেন তারা। শীত মৌসুম এলেই গাছ কেটে রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন গাছিরা।
এক সময় মাগুরার মাঠ কিংবা সড়কের দু’পাশ দিয়ে সারি সারি অসংখ্য খেজুর গাছের দেখা গেলেও এখন তা অনেকটাই চোখে পড়ে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও স্থানীয় ভাবে প্রচুর ইট ভাটার ইট পোড়ানোর কাজে খেজুর গাছের চাহিদা থাকায় আগের মতো আর চোখে পড়ে না শীত মৌসুমের রস দানকারী এ খেজুর গাছের।
এখনো তেমন একটা শীতের দেখা না মিললেও এরই মধ্যে খেজুর রস সংগ্রহের কাজ শুরু করে দিয়েছেন অনেকেই। খেজুর গাছ সংকটের কারণে প্রতি বছরের মতো এ বছরও চাহিদা অনুযায়ী রস পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা করেছে গাছিরা।
মাগুরার গ্রাম অঞ্চল ঘুরে কয়েকজনের খেজুরগাছির সাথে কথা বললে তাদের মধ্যে গাছি সুরাপ মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন ,শীত মৌসুমের শুরুতেই গাছ পরিচর্যা করি পরে গাছের রস সংগ্রহের কাজ করব, রস হলে সেই রস থেকে পাটালি ও ঝোলা গুড় তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি শীত মৌসুমী।
সুর আপনি আরো বলেন প্রতি বছরে ৪ মাস খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে সেই রস জ্বালিয়ে গুড় পাটালি তৈরি করি, এবং এ রস অত্যন্ত সুস্বাধু ও মানবদেহের উপকারিতার কারণে মানুষের কাছে অতি জনপ্রিয় । খেজুর গাছ একদিকে ও অক্সিজেন দান করে অপরদিকে সুস্বাদু রস দেয়, তাই বিলুপ্ত প্রায় এই গাছগুলো বেশি বেশি রোপনের মাধ্যমে খেজুর গাছের অতিত ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
বিভিন্ন সড়কের দুই ধার দিয়ে খেজুর গাছ লাগানোর জন্য কৃষকদের পরামর্শ করেছেন কৃষি কর্মকর্তা । খেজুর গাছ ফসলের কোন প্রকার ক্ষতি করে না। এই গাছের জন্য বাড়তি কোন খরচ করতে হয় না। অসিত মৌসুমী গ্রামের অঞ্চলের শহর অঞ্চলের সুস্বাদু রস প্রদান করে থাকে অসিত মৌসুমের গুড় পাটালি চাহিদা প্রদান করে।