শামীম আখতার (নিজস্ব প্রতিবেদক) যশোরের কেশবপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে দেশ জুড়ে চলমান নৈরাজ্য, নারী ও শিশু ধর্ষণের বিচারের দাবীতে প্রতিবাদ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কেশবপুর সরকারি ডিগ্রী কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি বের করে পৌরশহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ত্রিমোহিনী মোড় চত্বর ও কেশবপুর থানার গেটের সামনে অবস্থান নেয়। ওই সময় মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ধর্ষকদের ফাঁসি চাই, নারীদের নিরাপত্তা চাই সহ নানা শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে তোলেন।
মিছিলে অংশ নেওয়া প্রেমা আক্তার ও ছাদিয়া নামে দুই শিক্ষার্থী বলেন, একটি সুন্দর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আমরা চব্বিশের আন্দোলন করেছি। সেই আন্দোলনে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হলেও আমরা দেখতে পাচ্ছি, ফ্যাসিবাদের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। তারা বিভিন্ন স্থানে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার সরকারকে বিপাকে ফেলতে চাইছে। আজ থেকে এসব দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আমরাও সোচ্চার থাকবো। ২৪-এর অভ্যুত্থানে নারীরা সামনের সারিতে থেকে ভূমিকা রাখলেও, অভ্যুত্থান পরবর্তী তারা ঘরে বাইরে কোথাও যেন নিরাপদ নয়। তাই অনতিবিলম্বে ধর্ষণকারীসহ সকল অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি খুব দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে, তা-না হলে সামনের দিনে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে আমাদের।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি সম্রাট হোসেন বলেন, গত কয়েকমাস ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে খুন, হত্যা ও চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির পাশাপাশি নারী ও শিশু ধর্ষণসহ সকল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েই চলেছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার পতনের পর নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা মোটেই কাম্য নয়। আজ আমরা ধর্ষণসহ সকল অপরাধের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়েছি। আমরা এই প্রতিবাদ ও মশাল মিছিলের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা জানিয়ে দিতে চাই বাংলার জমিনে ধর্ষকদের কোনো ঠাঁই হবে না। এই ধরনের নিকৃষ্ট অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতেই হবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক প্রতিনিধি মাসফি চৌধুরী অরিন বলেন, দেশ জুড়ে নৈরাজ্য, নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা অত্যন্ত হতাশাজনক এবং জাতির জন্য খুবই লজ্জার। নারীরা ঘর বাইরে অনিরাপদ বোধ করছে। এরকম বাংলাদেশ আমরা চাই না। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে ধর্ষকদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতেই হবে। আমরা ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই। যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। বাংলার বুকে আমরা আর কোনো ধর্ষণের ঘটনা দেখতে চাই না। ধর্ষকরা বাংলার মাটিতে ঘুরে বেড়াবে, সেটা হতে পারে না। যেকোন ভাবেই ধর্ষকদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এছাড়াও ফ্যাসিবাদের দোসররা যেন বাংলার মাটিতে নতুন করে ষড়যন্ত্র করতে না পারে সেজন্য প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি তাদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান। বাংলার মাটিতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের কোন ঠাঁই হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
মিছিলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন, শাহেদ আহমেদ, এস কে শাওন, রাসেল গাজী, তাহসিন আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, জামিল হোসেন, প্রিন্স, মাহিন, শাহিদাসহ প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। মিছিলে শিক্ষার্থীরা শ্লোগানে শ্লোগানে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই এবং সকল অন্যায়ের প্রতিকারের দাবি জানান।