“ঢাকায় পালিত হল নবাব সিরাজউদ্দৌলার শাহাদাৎ বার্ষিকী” – ২রা জুলাই ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদন : আলহামদুলিল্লাহ। শেষ পর্যন্ত নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে নবাব সিরাজউদ্দৌলার যোগ্য উত্তরসূরী নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলার উপস্থিতিতে বাংলার প্রাণপ্রিয় নবাবের শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন করল ঢাকাবাসী।

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ মিলে আর কোথাও দিবসটি পালন করা হয়েছে বা হচ্ছে বলে আমাদের জানা নেই। অথচ ২৩ শে জুন পলাশী দিবস উদযাপনের চেয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলার শাহাদাৎ বার্ষিকী পালনের গুরুত্ব কম নয়। ইনশাআল্লাহ, এখন থেকে প্রতি বছর এই দিবসটি পালন করবে নবাব প্রজন্ম আব্বাসউদ্দৌলার হাতে গড়া সংগঠন নবাব সিরাজউদ্দৌলা স্বাধীনতা পরিষদ (এনএসএসপি)।

বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেশপ্রেমী স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে ২ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে ইতিহাস গড়ছে বাংলাদেশের দেশপপ্রেমী সংগঠন নবাব সিরাজউদ্দৌলা স্বাধীনতা পরিষদ (এন.এস.এস.পি)।

সংগঠনের উদ্যোগে দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল কালো ব্যাজ ধারণ, কালো পতাকা উত্তোলন, খতমে কোরআন, স্মরণসভা, দোয়া মাহফিল এবং অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং তাঁর বীরত্বগাথা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, ১৭৫৭ সালের ২ জুলাই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে মীরজাফরের পুত্র মীরনের নির্দেশে মুহাম্মাদি বেগ নির্মমভাবে হত্যা করে। তাঁর শাহাদাৎ -এর মধ্য দিয়ে উপমহাদেশে বিদেশি শাসনের পথ আরও সুগম হয়। তাই নবাব সিরাজউদ্দৌলার আত্মত্যাগ শুধু ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় নয়, বরং স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদা রক্ষার এক অনন্য প্রেরণা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এন.এস.এস.পি -র চেয়ারম্যান মহোদয়- নবাব সিরাজউদ্দৌলার ৯ম রক্তধারা প্রজন্ম সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেব ওরফে নবাবজাদা আলি আব্বাসউদ্দৌলা, সংগঠনের মহাসচিব লেখক ও সাংবাদিক ফাইজুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, প্রচার-প্রচারণা সম্পাদক ও মুখপাত্র সাংবাদিক ফারহানা নীলা, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, দপ্তর সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা নবাব সিরাজউদ্দৌলার আদর্শ, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরতে গবেষণা, স্মরণানুষ্ঠান এবং ইতিহাসভিত্তিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তাঁরা জাতির ইতিহাস ও স্বাধীনতার চেতনা সমুন্নত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *