বেনাপোলে স্বাবলম্বী হতে আলোকিত নারী’ পথ দেখাচ্ছে ৫ শতাধিক নারীকে

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোলে  ‘আলোকিত নারী’ নামের সামাজিক সংগঠন নারীদের স্বাবলম্বী হতে কাজ করছে। নিজ আগ্রহে সংগঠনটিতে যুক্ত হয়েছে   ৫ শতাধিক নারী।

রোববার বিকালে বেনাপোল পৌরসভার কাগজপুকুর গ্রামে অসচ্ছল ও পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পরিচালিত ‘আলোকিত নারী’ প্রশিণ কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মেহেদী হাসান।
এ সময় তিনি প্রশিণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের বিভিন্ন প্রশিণ কার্যক্রম প্রত্য করেন এবং সংগঠনের সার্বিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন।

বর্তমানে এই প্রশিণ কেন্দ্রে অসচ্ছল পরিবারের ৭৩ জন নারী বিভিন্ন কারিগরি ও সৃজনশীল প্রশিণ গ্রহণ করছেন। এর মধ্যে সেলাই, কুটিরশিল্প, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন কাজ শেখানো হচ্ছে। প্রশিণ নিয়ে অনেক নারী নিজেদের দতা কাজে লাগিয়ে আয় করছেন এবং পরিবারের অর্থনৈতিক সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রাখছেন।

গ্রামীণ নারীদের মতায়ন, আত্মনির্ভরশীলতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ল্েয সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম ‘আলোকিত নারী’ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে বেনাপোল পৌরসভা এলাকায় সংগঠনটির সঙ্গে ৫ শতাধিক নারী উপকারভোগী হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। প্রশিণের মাধ্যমে নারীদের দ করে তোলার পাশাপাশি তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করাই সংগঠনটির অন্যতম প্রধান ল্য।

পরিদর্শনকালে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, “আলোকিত নারী সংগঠনের কার্যক্রম সরেজমিনে দেখেছি এবং প্রশিণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। নারীদের দতা উন্নয়ন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি সংগঠনটির কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নারীদের প্রশিণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার এমন উদ্যোগ সমাজের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে। এ ধরনের সংগঠনের পাশে থেকে সরকারি পর্যায়ে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
‘আলোকিত নারী’ সংগঠনের সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, “সমাজের প্রতি প্রত্যেক সচেতন মানুষের দায়িত্ব রয়েছে। পারিবারিক শিা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা নারীদের জন্য কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছি। কারিগরি ও কর্মমুখী শিা গ্রহণের মাধ্যমে নারীরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন এবং পরিবারের পাশে শক্তভাবে দাঁড়াতে পারবেন।”
তিনি আরও বলেন, নারীদের শুধু প্রশিণ দেওয়াই নয়, প্রশিণ শেষে তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে সংগঠনটির। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা পেলে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ নারীদের হাতে কাজ তুলে দেওয়া এবং তাদের দতা উন্নয়নের মাধ্যমে আয়মুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হলে পরিবার ও সমাজে নারীর মর্যাদা বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হয়। সেই দিক থেকে ‘আলোকিত নারী’র মতো উদ্যোগ নারীর মতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির সভাপতি মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোমতাজ খাতুন, সহসভাপতি উজ্জ্বল হোসেন, অর্থ সম্পাদক আজিজুল হক, দপ্তর সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন এবং কাগজপুকুর গ্রাম প্রশিণ কেন্দ্রের সভাপতি ও প্রশিক সেলিনা বেগমসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও প্রশিণার্থীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *