শামীম আখতার (নিজস্ব প্রতিবেদক): ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি নৃশংস গণহত্যা ও বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে কেশবপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে কেশবপুরের সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতার আয়োজনে উপজেলা পাবলিক ময়দানে ওই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পাবলিক ময়দান থেকে একটি বিশাল গণমিছিল বের করে পৌরশহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সেখানেই গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাজার-হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে কেশবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক মোক্তার আলীর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামী পেশাজীবী সংগঠনের সভাপতি এ্যাডভোকেট ওজিয়ার রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক আলাউদ্দীন আলা, কেশবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি তবিবুর রহমান, মানব কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ তাজাম্মুল ইসলাম দীপু, কেশবপুর ডাক্তার খানা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা শহিদুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান, সাভার শতাব্দী নগর জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা এনামুল হাসান, বগা শাহ্কারারিয়া আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান খান, কেশবপুর মিফতাহুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আসাদুজ্জামান, কেশবপুর উলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি মোহাম্মাদ হাবিবুল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি, সম্রাট হোসেন, মাসফি চৌধুরী অরিন, হাফেজ মাওলানা জালাল উদ্দীন, হাফেজ আলিমুদ্দিন প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, ফিলিস্তিনের গাজা আজ মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর গণহত্যার শিকার। ইসরায়েলি বাহিনী নৃশংসভাবে গণহত্যা চালিয়েছে। তাদের পারমাণবিক বোমা হামলায় মানুষের মৃতদেহ আকাশে উড়ছে, পুরো শহরকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। এই গণহত্যা ও বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বক্তারা আরও বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংস গণহত্যা ও বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে অমার্জনীয় অপরাধ করেছে। বিশ্বের সকল মুসলমানের কলিজায় আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। এই গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্বের সকল মুসলিম দেশগুলোকে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার পাশাপাশি ইজরায়েলের সকল পণ্য সকল বর্জন করার আহবান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, কেশবপুর উপজেলায় ইসরায়েলি পণ্য পেপসি এবং কোকাকোলার কোন ডিলারশীপ থাকতে পারবে না। ডিলার পয়েন্ট হতে সকল পণ্য কোম্পানিকে ফেরত দিতে হবে। সকল ইসরায়েলি পণ্য বয়কট করতে হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাস্টার রফিকুল ইসলাম, উপজেলা ইসলামি আন্দোলনের সেক্রেটারি ডাঃ আব্দুল মান্নান, কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাই সিদ্দিকীসহ সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতা।
অপরদিকে, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি নৃশংস গণহত্যা ও বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেশবপুরের প্রতিনিধিরা একইদিন সকালে ইসরায়েলের সকল পণ্য বয়কটের জন্য পৌরশহরের দোকানে দোকানে লিফলেট বিতরণ করেন।