বেনাপোলে চাঁদা না পেয়ে বাড়িতে হামলা, ২০ লাখ টাকা দাবি ও মারপিটের ঘটনায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোল পোর্ট আমলী আদালতে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, বাড়ি নির্মাণে বাধা, হামলা ও মারপিটের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ৯ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। গত ০৬/০৯/২০২৬ তারিখে সংঘটিত এই ঘটনায় আদালতের বিজ্ঞ বিচারক ১০/০৯/২৬ তারিখে  অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশকে (পিবিআই) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, বাদী মো. হযরত আলী (৬৭) দীর্ঘদিন প্রবাসে (অস্ট্রেলিয়া) ছিলেন এবং সম্প্রতি দেশে ফিরে নিজ বাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত ৬ সেপ্টেম্বর সকালে আসামিরা পিস্তল, রামদা, বার্মিজ চাকু ও লোহার রড নিয়ে বাদীর বাড়িতে চড়াও হয়।

এ সময় ৩নং আসামির পিস্তলের বাট মাথায় ঠেকিয়ে এবং ৭নং আসামির বার্মিজ চাকুর আঘাতে বাদী হযরত আলী গুরুতর জখম হন। এছাড়া ৮নং আসামির ছুরিকাঘাতে ১নং সাীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শার্শায় ভর্তি করেন এবং সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও সেলাই দেওয়া হয়। পরবর্তীতে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার আসামিদের তালিকা:১. কাশেম (৫২), পিতা: মন্নান ২. নাজমুল (৩৫), পিতা: মকলেছুর ৩. সাদু (৬০), পিতা: হাশেম ৪. মোজাম্মেল (৩২), পিতা: মকলেছুর ৫. মোকলেছুর (৬০), পিতা: সাত্তার ৬. আক্তার (৩৮), পিতা: মন্নান ৭. ইয়ানুর (২৬), পিতা: কাশেম ৮. মোস্তফা ল্যাটা (৪৭), পিতা: হাশেম ৯. রাব্বি (২৫), পিতা: জাহাঙ্গীর
(সবার সাং: কাগজপুকুর উত্তরপাড়া ও শেখারপোতা, থানা: বেনাপোল পোর্ট, জেলা: যশোর)।

বাদি হযরত আলী ও সাক্ষী আলমগীর হোসেন ৬/০৯/২৬ তারিখে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এবং ৮/০৯/২৬ ইং তরিখ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিল । তাদের হাসপাতালের আইডি নং যথাক্রমে ৭১৬৭ এবং ৭১৬৮ ।

তবে এ ব্যাপারে আসামি কাশেম এর কাছে চাঁদার বিষয় জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন গ্রামের পাশাপাশি দুই বাড়ির জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছে। গ্রামের লোক আপোস মীমাংসার জন্য অনেকবার বসেছে। মোখলেছ ও কালুর জমির ভিতর ৫ শতাংশ জমি বেশী আছে। সেই জমি নকশা অনুযায়ী দাবিদার কালুর শরীক গং। তবে ওই জমি সরকারী হওয়ায় গ্রামের লোক মোখলেছকে কিছু জমি দেওয়ার কথা বলে মীমাংসার চেষ্টা করলে কালুর শরীকরা তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এ ঘটনায় এলাকজুড়ে তীব্র ােভের সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *